গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাওনা জেএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত মাঠ ব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যাটি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। মাঠে পানি জমলেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যালয় মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে নিচু অবস্থায় থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে; এমনকি অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টির পর মাঠে হাঁটাচলা করা যায় না। কাদামাটি ও পানির কারণে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিক্ষকরা বলেন, এ অবস্থায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা জানান, প্রায় চার বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই বলেও তিনি আক্ষেপ করেন। তিনি দ্রুত মাঠে মাটি ভরাট, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং মাঠের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষার গুণগত মান ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান, খেলাধুলা ও সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে শ্রীপুর পৌরসভা জলাবদ্ধতা নিরসনে মাটি ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি আশা করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, সমস্যাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন ইউএনও এবং পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া।
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত মাঠ উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সাফল্যের দিক থেকে বিদ্যালয়টি একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। প্রতি বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সাফল্য এ বিদ্যালয়ের গৌরবের প্রমাণ। তবে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাঠে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না হওয়া স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়কর।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা রয়ে গেছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষা খাতে বিপুল ব্যয় থাকা সত্ত্বেও কেন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নাবিহা সামারা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়। এতে চলাফেরা করতে সমস্যা হয়, খেলাধুলাও করা যায় না। কষ্ট করে কাদামাটি পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়, এতে কাপড় ভিজে যায় ও কাদা লেগে যায়।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, শুধু পরিকল্পনা নয়, সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
সময়ের আলো/আআ