মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামকে ঘিরে। অসুস্থতার অজুহাতে প্রথমে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন কামরুল ইসলাম। আদালতে আনার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে তিনি শুরুতে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জানানো হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় প্রসিকিউশন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থান নেয়। মৌখিক নির্দেশে বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাকে আদালতে হাজির করতে হবে। এর পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন
এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ, যার নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। একই দিনে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান- সংক্রান্ত ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থান ব্যবহার করে আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহিংসতা বাড়ানোর ভূমিকা ছিল অভিযুক্তদের।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আদালতে জানান, তৎকালীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক ভূমিকা রাখেন কামরুল ইসলাম ও আরেক অভিযুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি প্রসিকিউশন। তাই তারা অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন।
গত কয়েক মাস ধরে চলা শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে।
এএডি/