১০ বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৭৩২ শ্রমিকের

এসএম আলমগীর

জাতীয়

আজ শ্রমজীবী মানুষের দিন, মহান মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দিন, কিন্তু দেশের শ্রমিক শ্রেণি বা শ্রমজীবী মানুষ তার অধিকার

2026-05-01T03:12:38+00:00
2026-05-01T03:12:38+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
১০ বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৭৩২ শ্রমিকের
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৩:১২ এএম 
রানা প্লাজা ধসের চিত্র। ছবি : সংগৃহীত
আজ শ্রমজীবী মানুষের দিন, মহান মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দিন, কিন্তু দেশের শ্রমিক শ্রেণি বা শ্রমজীবী মানুষ তার অধিকার কতটা পাচ্ছে বা কর্মস্থল তার জন্য কতটা নিরাপদ। 

তথ্য বলছে, পদে পদে অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের শ্রমিক শ্রেণির মানুষের। পেটের ভাত জোটাতে গিয়ে কর্মস্থলেই দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে শ্রমিককে। শুধু তাই নয়, কর্মস্থলে শ্রমজীবী মানুষের অনেককেই শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্যমতে, গত ১০ বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৩২ শ্রমিক, আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৬০০ জন। আর গত বছর বা ২০২৫ সালে কর্মস্থলে মৃত্যু হয়েছে ৭৩৫ জনের, আহত হয়েছেন ৩৫০ জন। বছর দশেক আগেও কর্মস্থলে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হতো গার্মেন্টস খাতে। 

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মরত অবস্থায় বেশি মারা গেছেন পরিবহন খাতের শ্রমিক। গত ১০ বছরে ৩ হাজার ৭৫০ জন পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু যে কর্মক্ষেত্রে মারা যায় শ্রমিক, তা-ই নয়। কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার সময়ও ঝরে শ্রমিকের প্রাণ। ২০১৩ সালে সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ব্যাপক সংস্কারের ফলে গার্মেন্টস খাতে কমে এসেছে দুর্ঘটনা ও শ্রমিক মৃত্যুর হার। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা রোধে নেই কার্যকর উদ্যোগ, নেই আইনের প্রয়োগ, মেলে না ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণ। আর এসব কারণেই কর্মস্থলে শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে।
 
এ বিষয়ে শ্রম খাত বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য মালিক বা সরকার– কোনো পক্ষেরই কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। দুর্ঘটনায় শ্রমিক মারা গেলে বিচার মেলে না, এ ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগও নেই। নিহত-আহত শ্রমিক বা শ্রমিক পরিবার পান না যথাযথ ক্ষতিপূরণ, যেটি দেওয়া হয়, সেটি নামে মাত্র। সুতরাং, যেখানে বিচার মেলে না, ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগে না, আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই, সেখানে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধ বা শ্রমিকের মৃত্যু কীভাবে ঠেকানো যাবে। সুতরাং, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে আইনের সংস্কার দরকার, আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি করতে হব এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

পরিবহন খাতে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘পরিবহন খাতের শ্রমিকদের জীবনটা আরও কঠিন। কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় চালক বা হেল্পারসহ হতাহত হলে সবার আগে পরিবহন শ্রমিককেই দায়ী করা হয়। অথচ অনেক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই দেখা যায় চালকের দায় কম থাকে। অথচ পরিবহন শ্রমিক মারা গেলেও তার নিস্তার থাকে না। তা ছাড়া নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণও পান না। উল্টো শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের পালিয়ে বেড়াতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। পরিবহন খাতের দুর্ঘটনা ও শ্রমিক মৃত্যুর হার কমাতে হলে গার্মেন্টস খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। গার্মেন্টস খাতের মতো পরিবহন খাতেও ব্যাপক সংস্কার করতে হবে।’

বিলস পরিচালিত সর্বশেষ জরিপের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়কালে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় যে ১৮৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, তার মধ্যে ১৮৫ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় পরিবহন খাতে। 


এ ছাড়াও কৃষি খাতে ১৯ জন, নির্মাণ খাতে ১৪ জন, প্রবাসী শ্রমিক ১১ জন, দিনমজুর ১১ জন, মৎস্য খাতে ৯ জন, বিদ্যুৎ খাতে ৬ জন এবং অন্যান্য খাতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। 

এ ছাড়া ২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩১৯ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী শ্রমিক। সর্বোচ্চ পোশাক খাতে ২৫০ জন শ্রমিক আহত হন। এ ছাড়া ১২ জন ওয়ার্কশপ, ১০ জন পরিবহন, ৯ জন মৎস্য, ৯ জন পাদুকাশিল্প, ৮ জন ‍স্টিল মিল, ৭ জন  নির্মাণ ও ৭ জন হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক আহত হন। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে ২৩ জন শ্রমিক আহত হন। 

এ ছাড়া ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় যে ৭৩৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে ৭৩১ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী শ্রমিক। খাত অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় পরিবহন খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় কৃষি খাতে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৭  জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় নির্মাণ খাতে। 

এ ছাড়া মৎস্য শ্রমিক ৩৫ জন, দিনমজুর ৩২ জন, বিদ্যুৎ খাতে ১৫ জন, প্রবাসী শ্রমিক ১২ জন, নৌপরিবহন খাতে ১১ জন, তৈরি পোশাক খাতে ৬ জন, টেক্সটাইল খাতে ৪ জন এবং অন্যান্য খাতে ৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। জাহাজ ভাঙা শিল্পে ৪ শ্রমিক নিহত হন।

২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন : জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে ৯২ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন নিহত, ৩০ জন আহত, ১৬ জন নিখোঁজ ও ৬ জনের ক্ষেত্রে উদ্ধারের তথ্য উল্লেখ করা হয়। নির্যাতিতদের মধ্যে ৮৯ জন পুরুষ এবং ৩ জন ছিলেন নারী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হন ২২ জন মৎস্য শ্রমিক। 

উল্লেখ্য, এদের মধ্যে ৯ জন জলদস্যু দ্বারা অপহৃত এবং বাকি ১৩ জন সমুদ্রপথে মৎস্য আহরণের সময় আরাকান আর্মি দ্বারা অপহরণের শিকার হন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ জন শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন তৈরি পোশাক শিল্পে, যার মধ্যে ১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হন। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী শ্রমিক ১৯ জন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হন। 

এ ছাড়া ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী নির্যাতিত হন, যার মধ্যে ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। এ ছাড়াও কৃষি খাতে ৩ জন নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ৩ জন নিহত হন। গৃহশ্রমিকদের মধ্যে ৩ জন নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ২ জন নিহত এবং ১ জন আহত হন। পরিবহনে ৩ জন শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন যার মধ্যে ২ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। অন্যান্য খাতে ১১ জন শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ১০ জন নিহত এবং ১ জন আহত হন।

২০২৬ সালে শ্রমিক অসন্তোষ : ২০২৬ সালে বিভিন্ন সেক্টরে সর্বমোট ৭৫টি শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ৩৯টি শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে তৈরি পোশাক খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯টি শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে টেক্সটাইল শিল্পে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে বন্দরে  ৪টি পরিবহনে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে ১৯টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে।

জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বকেয়া বেতনের দাবিতে ২৪টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। দাবি আদায়ের জন্য ১৮টি, পূর্ব নোটিস ছাড়া কারখানা বন্ধের জন্য বিক্ষোভ ১৬টি, বোনাসের দাবিতে ১১টি, অধিকার আদায়ের দাবিতে ৩টি, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ৩টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে ৫০ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখ নেই। এদের মধ্যে গ্রেফতার হন ২৩ জন শ্রমিক।

২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৭৩৫ শ্রমিক নিহত : জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৭৩৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, এর মধ্যে ৭৩১ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী শ্রমিক। খাত অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় পরিবহন খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় কৃষি খাতে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় নির্মাণ খাতে। এ ছাড়া মৎস্য শ্রমিক ৩৫, দিনমজুর ৩২, বিদ্যুৎ খাতে ১৫, প্রবাসী শ্রমিক ১২, নৌপরিবহন খাতে ১১, তৈরি পোশাক খাতে ৬, টেক্সটাইল খাতে ৪ ও অন্যান্য খাতে ৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। জাহাজ ভাঙা শিল্পে নিহত হন ৪ জন শ্রমিক।

২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৬৩ শ্রমিক আহত : ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৬৩ জন শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে ২৬৩ জনই পুরুষ শ্রমিক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯ পরিবহন খাতে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জাহাজ ভাঙা শিল্পে ৫৪  ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ জন মৎস্য খাতে আহত হন। নির্মাণ খাতে ২৮ জন শ্রমিক আহত হন। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পে ১৮, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে ৮, ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ৬ , বিদ্যুৎ খাতে ৫ , চাতালে ৫, নৌপরিবহন খাতে ৫, স্পিনিং মিলে ৫, নিরাপত্তাকর্মী ৫ ও অন্যান্য খাতে ২১ জন শ্রমিক আহত হন। এর বাইরে ৪৫ জন শ্রমিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিখোঁজ হন, যার মধ্যে অধিকাংশই নৌপরিবহন ও মৎস্য শ্রমিক।

গত ১২ বছরে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় হতাহতের চিত্র : ২০১৫-২০২৬ সাল সময়কালে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯২১৯ এবং আহত হন ৬১৬৫ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ২০১৯ সালে নিহত হন সর্বোচ্চ ১২০০ শ্রমিক, যেখানে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১০৩৭ শ্রমিক আহত হন।

৭ বছরে নির্মাণ সেক্টরে হতাহত : ২০২০-২০২৬ সাল সময়কালে নির্মাণ সেক্টরে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬৫২ এবং আহত হন ৩১১ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ২০২২ সালে নিহত হন সর্বোচ্চ ৮৬ জন শ্রমিক, যেখানে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ১৫৪ শ্রমিক আহত হন।

৭ বছরে পরিবহন সেক্টরে হতাহত : ২০২০-২০২৬ সাল সময়কালে পরিবহন সেক্টরে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৪৬৭ জন এবং আহত হন ৩৭৫ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ২০২১ সালে নিহত হন সর্বোচ্চ ৫১৩ জন শ্রমিক, যেখানে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ জন শ্রমিক আহত হন। 

৭ বছরে পোশাক সেক্টরে হতাহত : ২০২০-২০২৬ সাল সময়কালে পোশাক সেক্টরে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭ জন এবং আহত হন ৪৮০ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ২০২৫ সালে নিহত হন সর্বোচ্চ ৬ জন শ্রমিক, যেখানে ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ২০০ জন শ্রমিক আহত হন।

কর্মস্থলে নির্যাতনেরও শিকার হন শ্রমিক : বিলসের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৬০ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে ১১৪ জন নিহত, ৭১ জন আহত, ১৪ জন নিখোঁজ, ৩ জনের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার এবং ৫৮ জনের ক্ষেত্রে অপহরণের পর উদ্ধারের তথ্য উল্লেখ করা হয়। 

নির্যাতিতদের মধ্যে ২৪৫ জন পুরুষ এবং ১৫ জন ছিলেন নারী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের  শিকার হন ৫২ জন মৎস্য শ্রমিক, যার মধ্যে ২ জন নিহত হন। মোট ৪৩ জন অপহৃত হন, যাদের মধ্যে ৩০ জন উদ্ধার হন এবং ১৩ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ জন শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন পরিবহন খাতে,  যার মধ্যে ৩৩ জন নিহত, ৬ জন আহত ও ১ জন অপহৃত হন। উল্লেখ্য, অপহৃতকে পরে উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ জন শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন অটোরিকশা খাতে, যার মধ্যে ৩১ জন নিহত, ৭ জন আহত।  

এ ছাড়া ৩১ জন তৈরি পোশাক খাতে, যার মধ্যে ৪ জন নিহত, ২৫ জন আহত ও ২ জনের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, রাবার বাগানের ২০ জন শ্রমিক একই ঘটনায় অপহৃত হন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।  কৃষি খাতে ১৬ জন নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ৯ জন নিহত ও ৭ জন অপহৃত হন। অপহৃত ৭ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ৯ জন নিহত ও ৬ জন আত্মহত্যা করেন। 

এ ছাড়া ১১ জন গৃহশ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। এর পাশাপাশি ১০ জন সংবাদকর্মী নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন।

এফআর


  বিষয়:   শ্রমজীবী  মহান  মে দিবস  শ্রমিক  কর্মক্ষেত্র  দুর্ঘটনা  প্রাণ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: