কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে সক্ষম হলেও, এটি কর্মক্ষেত্রে মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিশেষ করে কর্মীদের ওপর নজরদারি, কাজের চাপ বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের উদ্বেগ– এসব বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি নতুন ওয়ার্কিং পেপারে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, প্রচলিত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির তুলনায় এআই একেবারে ভিন্নভাবে কাজ করে। এটি কর্মক্ষেত্রের মানসিক ও সামাজিক পরিবেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এর ফলে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে নতুন ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
এআই এখন নিয়োগ থেকে শুরু করে কর্মপর্যবেক্ষণ ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন– পুরো কর্মজীবনের নানা ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে কাজ কীভাবে পরিকল্পনা, সংগঠিত এবং পরিচালিত হবে– সেসব ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে।
আইএলওর ওয়ার্কিং পেপারটি আরও বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রচলিত কর্মক্ষেত্র– দুই জায়গাতেই এআই ব্যবহারের কারণে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং ডেটানির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। বিভিন্ন দেশ কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি অনেক সময় বিদ্যমান পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কাঠামোর মধ্যে সঠিকভাবে ধরা পড়ে না। কারণ অধিকাংশ দেশে এখনও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বলতে মূলত শারীরিক ঝুঁকিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, মানসিক ও সামাজিক দিকগুলো তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত থাকে।
আইএলওর এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন নেই যা সরাসরি এআই-নির্ভর কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনগুলোকে সম্বোধন করে। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে তৈরি ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই উদ্যোগের মধ্যে শ্রম আইন, কর্মসংস্থান নীতি, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, সমতা ও বৈষম্যবিরোধী ব্যবস্থা এবং ডেটা সুরক্ষা– সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে।
এফআর