প্রকৃতিতে প্রশান্তি ও উর্বরতার বার্তা নিয়ে আসে বৃষ্টি। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বৃষ্টিকে মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ও রহমত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এই অনন্য উপহার কেবল প্রকৃতিকেই প্রাণদান করে না, বরং মুমিনের অন্তরকেও প্রফুল্ল করে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কেবল বৃষ্টির প্রতীক্ষাই করতেন না, বরং রহমতের এই পরশ তিনি নিজে উপভোগ করতেন।
বৃষ্টি শুরু হলে নবীজি (সা.) এর মধ্যে এক ধরনের আনন্দ পরিলক্ষিত হতো। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। তখন মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর পরিধেয় বস্ত্রের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন, যাতে বৃষ্টির পানি সরাসরি তাঁর পবিত্র শরীরে পড়ে। সাহাবায়ে কেরাম এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এই পানি মহান রবের কাছ থেকে একদম নতুন আসছে (অর্থাৎ এটি আল্লাহর রহমত)।
বৃষ্টির যেমন উপযোগিতা আছে, তেমনি মাঝেমধ্যে তা দুর্যোগের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। আকাশ যখন মেঘলা হয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন হতো এবং প্রচণ্ড বাতাস বইত, তখন নবীজি (সা.) অকল্যাণের আশঙ্কায় বিচলিত হতেন। তাই বৃষ্টির সময় তিনি মহান আল্লাহর দরবারে কল্যাণ চেয়ে প্রার্থনা করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, বৃষ্টির সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) পড়তেন— ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিয়া’। যার অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনি এই বৃষ্টিকে প্রবহমান এবং উপকারী করে দিন।
বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানির শুকরিয়া আদায় করতেন নবীজি (সা.)। তিনি কৃতজ্ঞতাভরে বলতেন, ‘মুতিরনা বি ফাদলিহি ওয়া রহমাতিহি’। অর্থাৎ, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতেই এই বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
প্রকৃতির এই নেয়ামতকে অবজ্ঞা না করে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বৃষ্টির পানির পরশ নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মুমিনের প্রকৃত প্রশান্তি। নববী আদর্শ আমাদের শেখায় যে, বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দু আল্লাহর কুদরত ও দয়ারই এক একটি নিদর্শন।
/কহু