রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে রাতভর আকাশপথে চালানো হামলার ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ তুলেছে। ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রুশ হামলায় দুইজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ওডেসার আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেহ কিপার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘শত্রুরা ওডেসা অঞ্চলের বেসামরিক এবং বন্দর অবকাঠামোতে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। দুর্ভাগ্যবশত, এতে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন জখম হয়েছেন।’
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিয়েভ রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সফল হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ‘ছায়া তেল বহর’-এর ওপর অবরোধের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জেলেনস্কি তার বার্তায় লেখেন, ‘আমাদের সেনারা রাশিয়ার ছায়া তেল বহরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা অব্যাহত রেখেছে—তারা নভোরোসিস্ক বন্দরের প্রবেশমুখে এমন দুটি জাহাজে আঘাত হেনেছে।’ এই হামলার ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলার শিকার হয়েছে রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন এলাকাও। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ মস্কো অঞ্চলের আকাশে প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ভলোকোলামস্ক জেলার চেরনেভো গ্রামে ড্রোন হামলার ঘটনায় ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন।’ এছাড়া রাশিয়ার স্মোলেনস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি আনোখিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ম্যাক্স’-এ জানিয়েছেন, সেখানে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একটি শিশু আহত হয়েছে।
দুই দেশের সীমান্ত এবং কৌশলগত অবস্থানে হামলার তীব্রতা বাড়ার ফলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওডেসার বন্দর এলাকায় রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত অবকাঠামো ধ্বংস করা, অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতির কারণে দুই পক্ষের দেওয়া এসব ক্ষয়ক্ষতির দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তকালীন এই সংঘাতের মাত্রা দুই দেশেই মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সময়ের আলো/টিএইচ