বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে আবারও। নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু, আঞ্চলিক কমিটি ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব- একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সভা থেকেই এসব সিদ্ধান্ত আসে, যা দেশের ক্রিকেটের কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সভায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোর অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেওয়া। চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলের বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে নতুন করে এসব অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ খুলে গেল।
এ ছাড়া বোর্ড পরবর্তী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য নোটিস জারি করা হবে, যা বিসিবি সংবিধানের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এই পদক্ষেপকে আসন্ন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিসিবির আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে একজন প্রতিনিধি থাকবেন, পাশাপাশি বিসিবি মনোনীত দুজন সদস্য থাকবেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। কোকা-কোলা বাংলাদেশকে আগামী দুই বছরের জন্য বিসিবির অফিসিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার ও বেভারেজ পার্টনার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি বোর্ডের আর্থিক ও বিপণন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির এই সভা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে কাঠামোগত পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনার এই উদ্যোগ এখন কীভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট অঙ্গন।