দল গড়ার পর প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই দুই আঞ্চলিক পরাশক্তিকে হটিয়ে বিজয় কেতন ওড়াতে চলেছেন দক্ষিণি সিনেমার সুপার স্টার জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি চলচ্চিত্র জগতে বিজয় থালাপতি নামেই বেশি পরিচিত। এর মাধ্যমে ইতিহাস গড়তে চলেছেন অভিনেতা, যা গত ৪৯ বছরে আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা করতে পারেননি। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তামিল নাড়ু বিধান সভার ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৪টিতে এগিয়ে আছে বলে এনডিটিভির সর্বশেষ টালিতে দেখা যাচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও তার মিত্ররা এগিয়ে মাত্র ৫৮টি আসনে। এই রাজ্যে ডিএমকের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল কংগ্রেস ও দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড়া কাজাগাম (ডিএমডিকে)। তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ তামিল নাড়ুর অন্যতম প্রভাবশালী দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে ৭১টি আসনে।
২০২১ সালের নির্বাচনে এ রাজ্যে ডিএমকে ও তার মিত্ররা পেয়েছিল ১৫৯টি আসন। এআইএডিএমকে জিতেছিল ৭৫টি। তবে টিভিকে জিতলে থালাপতি বিজয়ই তামিলনাড়ু সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজয়ের টিভিকের যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালে। দুই বছরের মধ্যেই তারা ডিএমকে ও এআইএডিএমকেকে হটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এ রাজ্যে এককভাবে সরকার গড়তে কোনো দল বা জোটের ১১৮টি আসন লাগবে।
৫০ বছর বয়সি এই দক্ষিণি তারকার জন্ম চেন্নাইয়ে। বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর কলিউডের একজন নামকরা চিত্র পরিচালক ছিলেন। বাবার পরিচালিত ১৫টি সিনেমায় বিজয় কাজ করেছেন। রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দেবেন বলে রুপালি পর্দাকে এর মধ্যে বিদায়ও জানিয়েছেন এই তারকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে বিজয় জানিয়েছিলেন, এটি তার কাছে কোনো শখের কাজ নয় বরং জনগণের সেবা করার একটি ‘মিশন’। অভিনয়ের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রথমবার নির্বাচনি ময়দানে নেমেই তিনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।
সর্বশেষ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে সিনেমার জনপ্রিয়তাকে সরাসরি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়েছিলেন এমজিআর। ওই নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি টানা এক দশক তামিলনাড়ু শাসন করেন। কল্যাণমূলক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তাকে মিলিয়ে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বদলে দিয়েছিলেন। এরপর বহু অভিনেতা রাজনীতিতে এলেও কেউই এককভাবে ক্ষমতার চূড়ায় পৌঁছাতে পারেননি। জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি এমজিআরের প্রতিষ্ঠিত এআইএডিএমকের উত্তরসূরি হিসেবেই ক্ষমতায় আসেন, নিজস্ব নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে নয়।
২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুততা ও পরিকল্পিত অগ্রগতি।
এদিকে, দীর্ঘদিন সেন্সর জটিলতায় আটকে থাকার পর বিজয়ের সর্বশেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’ প্রেক্ষাগৃহে আসছে ৮ মে। এটি অভিনেতার সর্বশেষ কাজ বলে রাজনৈতিক অ্যাকশনধর্মী এই সিনেমা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।