মমতার বিপুল হারের কারণ ও পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। স্বাধীনতার
মমতার বিপুল হারের কারণ ও পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার হিন্দুত্ববাদী এই দলটি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির ‘ভূমিধস’ সাফল্য এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের পরাজয়ের পেছনে প্রশান্ত কিশোর পরবর্তী ‘আই-প্যাক’-এর ওপর অতি নির্ভরতা এবং মুসলিম ভোটের সমীকরণে ভাঙন বড় ভূমিকা পালন করেছে। এর আগে আই-প্যাকের কৌশল তৃণমূলকে সাফল্য দিলেও, এবার সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে দলটি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মুসলিম ভোটের বিভাজনকে। অতীতে এই ভোটব্যাংকের সিংহভাগ মমতার ঝুলিতে থাকলেও এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির উত্থানে সেখানে ধস নেমেছে।
অন্যদিকে, হিন্দু ভোটের একটি বিশাল অংশ, যা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তা সরাসরি বিজেপির পক্ষে গেছে। এর পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির জোরালো অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিভিন্ন ভাতা দ্বিগুণ করার বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশলগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। গত ৩-৪ বছর ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তারা তৃণমূলের সাংগঠনিক ত্রুটিগুলো নিয়ে কাজ করেছে। এবারের নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বদলে স্থানীয় ও নিজস্ব ক্যাডারদের মনোনয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
এছাড়া বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও বিজেপির জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে। তবে এই জয়ের পর বাঙালির মনন ও সংস্কৃতির সঙ্গে হিন্দি বলয়ের একটি দল কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কী হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।
এখন সব মহলে একটিই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করতে পারলে শুভেন্দু অধিকারীই হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে সেই সম্ভাবনাই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে শুভেন্দু ছাড়াও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের নামও জোর আলোচনায় রয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অতীতে দেখা গেছে তারা অনেক সময় কম পরিচিত কাউকে দায়িত্ব দিয়ে চমক সৃষ্টি করে। ফলে চূড়ান্ত নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী শাসনকর্তার পরিচয় নিয়ে এক ধরনের রহস্য বজায় থাকছে।