যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ চীনা নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বেইজিং ধীরগতি অবলম্বন করায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। চীন যদি তাদের নাগরিকদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর ভ্রমণ ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রয়টার্সের বরাতে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবেন তিনি। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে নিজের অভিবাসন নীতির সাফল্য তুলে ধরতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রায় ৩ হাজার নাগরিককে ফেরত নিলেও গত ছয় মাস ধরে বেইজিং এই প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখের বেশি চীনা নাগরিক নথিবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০ জন বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে বন্দি আছেন।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীন যদি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের বন্ডের পরিমাণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এমনকি সাধারণ চীনা নাগরিকদের ভ্রমণেও কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিং এই নাগরিক ফেরত নেওয়ার বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলে অভিযোগ মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। অনেক ক্ষেত্রে চীন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া চীনা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক আসামিদের প্রত্যর্পণের দাবি তোলে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন হুঁশিয়ারির পর বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে চীন জানিয়েছিল, অবৈধ অভিবাসন একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি সমাধানে সব দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।
/কহু