রাজধানীর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লক্ষ্য- এলাকাটিকে ধাপে ধাপে ‘অপরাধ শূন্যের কোটায়’ নামিয়ে আনা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বসিলা এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ক্যাম্প চালুর পর থেকেই এলাকায় টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর হাউজিং এলাকায় এখন নিয়মিত পুলিশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট- একটি বসিলা ব্রিজের ঢালে এবং অন্যটি রায়ের বাজার স্মৃতিসৌধের সামনে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে।
ক্যাম্পে ডিএমপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মিলিয়ে ১০০-এর বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। যানবাহন ও মোবাইল টিম যুক্ত হওয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বসিলা ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির ঘটনা আগে তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষ করে নবীনগরের কয়েকটি সড়ক, তিন রাস্তার মোড় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া নদীপথ ব্যবহার করে অপরাধীদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও নজরে এসেছে, যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপি বলছে, বসিলার ক্যাম্পটি কার্যত একটি ‘মিনি থানার’ মতো কাজ করছে। এখান থেকে অভিযোগ গ্রহণ, তাৎক্ষণিক টহল পাঠানো এবং জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
জরুরি সেবা নম্বর জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কুইক রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। পাশাপাশি গোপন তথ্যদাতাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তাও দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পের ইনচার্জ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়েছে। লক্ষ্য হলো তিন মাসের মধ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ায় এলাকায় কিছুটা হলেও নিরাপত্তাবোধ ফিরে এসেছে। তবে তারা চান এই কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকুক। একজন বাসিন্দার ভাষায়, ‘পুলিশ নিয়মিত থাকলে অপরাধীরা আর সাহস পাবে না।’
পুলিশের ঘোষণা অনুযায়ী, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলে মোহাম্মদপুরের বসিলা ও আশপাশের এলাকাকে ধীরে ধীরে “অপরাধমুক্ত অঞ্চল” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এএডি/