ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ৪–৫টি বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে, যদিও কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. মালেক গাজী (৫৩), মো. শাহীন মিয়া (৩৪), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২) ও মাহমুদ হাসান (২৭)। তাদের মধ্যে শাহীন মিয়ার পিঠে ছুরিকাঘাত এবং সাজ্জাদ হোসেনের চোখে আঘাত লেগেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, রিফাত মোল্লা অভিযোগ করেন, তার লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে এবং থানায় অভিযোগ করতে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতার ইন্ধন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, রিফাত মোল্লা থানায় অভিযোগ করতে এলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্তাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
/এসএকে