জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করবেন।
গত ২৬ এপ্রিল মামলার প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। এই মামলার রায় বা আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত ২৮ জন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। অন্যদিকে সাবেক মেয়র তাপস ছাড়াও পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়াও আইনগতভাবে চলমান রয়েছে।
শুনানি চলাকালীন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতের সামনে মামলার তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত নৃশংসতার বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং জানান, প্রসিকিউশনের কাছে এসব অপরাধের পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।
শুনানিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গটিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ভিডিও ফুটেজে অন্যান্য আসামিদের উপস্থিতিও স্পষ্ট দেখা গেছে এবং এসব তথ্য-প্রমাণ ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট।
বিপরীত দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ শুনানিতে দাবি করেন, বর্ণিত ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
তার মতে, এ ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য দেশে প্রচলিত পৃথক আইন রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ এই যুক্তির বিরোধিতা করে গণহত্যার সপক্ষে তাদের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। দুই পক্ষের যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
সময়ের আলো/টিএইচ