যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি এবং সমঝোতা বিষয়ক বিভ্রান্তিকর তথ্যের আড়ালে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের কারসাজি বা ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ এর অভিযোগ উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্প চালুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মাথায় স্থগিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত খবরের সুযোগ নিয়ে কোনো একটি চক্র তেলের বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মুনাফা লুটে নিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাক্সিওস-এর একটি প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দাবি করার ঠিক আগ মুহূর্তে তেলের বাজারে ৯২ কোটি ডলার সমমূল্যের ‘শর্ট পজিশন’ নেওয়ার তথ্য সামনে আসায় এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ ভোরে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) ৩টা ৪০ মিনিটে তেলের বাজারে প্রায় ১০ হাজার কন্ট্রাক্টের একটি অস্বাভাবিক বড় লেনদেন হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ডলার। এর ঠিক ৭০ মিনিট পর অ্যাক্সিওস প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসানে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এই খবরের প্রভাবে তেলের দাম ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ওই কারসাজিকারী চক্রটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুল অর্থ আয় করে। তবে কিছুক্ষণ পরই ইরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ চালুর ঘোষণা দিলে তেলের দাম পুনরায় ৮ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে। ইরানের আইনসভার প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অ্যাক্সিওসের ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত হওয়ার নেপথ্যে সৌদি আরবের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনবিসি নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের সাথে পূর্ব আলোচনা ছাড়াই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ায় সৌদি নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব তাদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত করে দেয়। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপও এই সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিমান সহায়তা এবং জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা হারানোয় মার্কিন বাহিনীকে তাদের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামনে সমঝোতার জন্য এমন কিছু শর্ত রেখেছে যা তেহরানের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করা এবং ফোরদো ও নাতাঞ্জের মতো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার মতো কঠোর শর্ত রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সেটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পুনরায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, ৭ মে তারিখে যে হামলাটি হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে আগামী ১০ মে-র সপ্তাহে নির্ধারণ করা হতে পারে। এই পুরো পরিস্থিতির মাধ্যমে একদিকে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং অন্যদিকে বাজারের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: সোনার ২১
সময়ের আলো/টিএইচ