নামাজ। মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত। কিন্তু এই নামাজ নিয়েই আমাদের মাঝে রয়েছে অনেক ছোট ছোট দ্বিধা। কেউ জানতে চান, রুকুতে কী পড়তে হয়, কেউ বা ভাবেন দোয়া কুনুত ভুলে গেলে কী হবে? আবার অনেকেই মনের মাঝে প্রশ্ন লুকিয়ে রাখেন, সানা কখন পড়তে হয়? নামাজের একেবারে শুরুতে, নাকি পরে? আর যদি সানা না পড়ি, তাহলে কি নামাজ হবে?
লজ্জা বা সংকোচে হয়তো কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় না। অথচ নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য এসব মাসআলা জানা খুবই জরুরি। তাই আজ আমরা জানব, সানা কী, কখন পড়তে হয়, এবং এটি না পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় কি না।
সানা অর্থ প্রশংসা ও গুণগান। বান্দা যখন দুনিয়ার সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তখন নামাজের শুরুতেই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এই দোয়া পড়ে। তাকবিরে তাহরিমা বেল হাত বাঁধার পরপরই সানা পড়া সুন্নত। ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী নামাজ আদায়কারী সবার জন্যই এটি পড়া সুন্নতে মুআক্কাদা। দোয়াটি যেহতু সুন্নতে মুআক্কাদা, সে কারণে কেউ ভুলে বা ইচ্ছাকৃত না পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কোনো কারণ ছাড়া সুন্নত ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
সানা উচ্চারণ ও অর্থ
মুহাম্মদ (সা.) নামাজ শুরু করার সময় এই দোয়াটি পড়তেন,
سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।’
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতপূর্ণ। আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ । এবং আপনি ব্যতীত আর কোনো মাবুদ নেই। (সহিহ বুখারি: ৮০৪; সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩)
/এসএকে