কারাবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন তারা। একই সময়ে পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, কারাগারে থাকা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সিনেটে পিটিআইয়ের সংসদ নেতা আলী জাফরের উত্থাপিত এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ খান বলেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবি আদালতের নির্দেশনা ও কারাবিধি অনুযায়ী বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসা নিয়ম মেনেই দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে তারা বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে আছেন। বিষয়টি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টসহ উচ্চ আদালতেও আলোচিত হয়েছে।
রানা সানাউল্লাহ আরও জানান, আদালতের বন্ধু হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালমান সাফদার আগে আদিয়ালা কারাগার পরিদর্শন করে বন্দিদের অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের সঙ্গে কারা সুপারের প্রতিবেদনের মিল পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, বুশরা বিবির শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বিরোধী দল পিটিআই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গভীর রাতে হঠাৎ করে বুশরা বিবিকে গোপনে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী বা দলকে কিছু না জানিয়েই আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার খুররম ভির্ক, নাসিম আলী শাহ, জাহির শাহ, রাজাব আব্বাসি, জার আলম ও রুবিনা শাহিনসহ পিটিআই নেতারা আদিয়ালা কারাগারে পৌঁছালেও সাক্ষাতের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত তাদের ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে পিটিআই নেতা জাহির শাহ বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা পেলেই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নানা বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, যা বিচার বিভাগের জন্যও ক্ষতিকর।
আরবিএন