ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে বৈশ্বিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অবনতি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মানুষের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি রাশিয়ার চেয়েও বেশি নেতিবাচক। এমন তথ্য উঠে এসেছে শুক্রবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে।
ডেনমার্ক ভিত্তিক গণতন্ত্রবিষয়ক বার্ষিক এই জরিপটি প্রকাশ করেছে অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোন দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয় এই প্রশ্নে রাশিয়া ও ইসরায়েলের পর সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।
জরিপে বলা হয়, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বৈশ্বিক ইতিবাচক ধারণা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা দুই বছর আগের প্লাস ২২ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমানে মাইনাস ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তুলনায় রাশিয়ার অবস্থান মাইনাস ১১ শতাংশ এবং চীনের প্লাস ৭ শতাংশ।
এই জরিপ পরিচালনা করেছে পোলিং প্রতিষ্ঠান নিরা ডেটা। গত ১৯ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫টি দেশের ৪৬ হাজার ৬০০ জনের উত্তরের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করা হয়েছে।
জরিপে আরও বলা হয়, বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান রাশিয়া ও ইসরায়েলের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসির প্রতিষ্ঠাতা এবং ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির দ্রুত অবনতি দুঃখজনক হলেও বিস্ময়কর নয়। তার মতে, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি ব্যাপক শুল্ক আরোপ, ন্যাটো মিত্রদের প্রতি হুমকি এবং ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত এই অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পুনঃপুন হুমকি, ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এসব কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার সম্পর্ক গভীর চাপের মুখে পড়েছে।
এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো নৌবাহিনী পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও মন্তব্য করেন, যা জোটের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি করে।
আগামী ১২ মে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিতব্য ডেমোক্রেসি সামিটের আগে এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
আরবিএন