মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে বিরাজমান উত্তেজনার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম ক্যাসিনো রিসোর্ট উদ্বোধনে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। প্রকল্পটির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠান উইন রিসোর্টস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রেইগ বিলিংস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও শিপিং খাতের সংকটের কারণে এই বিলাসবহুল প্রকল্পের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প রুট ও উপকরণ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি।
উইন রিসোর্টসের সিইও ক্রেইগ বিলিংস জানিয়েছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মালামাল পরিবহনে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রকল্পের উদ্বোধনে ‘সামান্য বিলম্ব’ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হবে।
বিলম্বের আশঙ্কা থাকলেও ২০২৭ সালের মধ্যেই রিসোর্টটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। উল্লেখ্য, উইন রিসোর্টস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান, যারা বর্তমানে লাস ভেগাস, বোস্টন এবং চীনের ম্যাকাওতে বড় মাপের ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ প্রদেশের আল মারজান দ্বীপে এই রিসোর্টটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে ১,৫৪২টি কক্ষের পাশাপাশি গেমিং বা জুয়া খেলার বিশেষ সুবিধা থাকবে। বর্তমানে দেশটিতে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো উইন রিসোর্টসকে বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
এই উদ্যোগকে আমিরাতের পর্যটন ও অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংঘাত ও অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত কেবল জ্বালানি পরিবহন নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আল মারজান দ্বীপের এই রিসোর্টটি আমিরাতের পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তার ভবিষ্যৎ সময়সীমা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর এই প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সময়ের আলো/টিএইচ