যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে মামদানির হুমকি উপেক্ষা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। এ সময় কড়া ভাষায় জোহরান মামদানির সমালোচনা করে তাকে ‘ঘৃণাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া নির্বাচিত কর্মকর্তা’ বলে আখ্যা দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমি নিউইয়র্কে যাচ্ছি। অবশ্যই সেখানে যাব। আমি এই ঘৃণাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া নির্বাচিত কর্মকর্তার সামনেই সত্য কথা বলব।’
তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি শহরের ইহুদিদের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছেন। আমরা কি ১৯৩০-এর দশকে ফিরে গেছি? এত ঘৃণা, এত মিথ্যা।
গত সপ্তাহে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহুর মতো যুদ্ধাপরাধী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেপ্তার করা হবে না বলে নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
এদিকে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে ‘আমাদের অন্যতম সেরা বৈঠক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, অনেকে আমাদের জোটে ফাটল খুঁজতে চান। কিন্তু তারা আজ যা দেখেছেন, তা গ্রানাইটের দেয়ালের মতো দৃঢ়। আমাদের একটি অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে।
অন্যদিকে বৈঠক শেষে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠক ‘খুব ভালো’ হয়েছে এবং সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তোষ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সময়ও হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
বিক্ষোভে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান তারা। এ সময় তাদের হাতে ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন’ এবং ‘নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ