ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন শেষ হলেও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বলিউডপ্রেম নিয়ে আলোচনা থামছে না। ভারতে সফরের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের সময় তিনি যে বলিউড গানগুলো বেছে নিয়েছেন, সেগুলো নিয়েই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও প্রকাশ করে আনোয়ার ব্যবহার করেছেন শাহরুখ খান ও কাজলের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-এর গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’।
মোদির সঙ্গে আরেকটি ছবি পোস্ট করার সময় তিনি বেছে নেন শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও কারিশমা কাপুর অভিনীত ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার একই নামের গান।
ব্রিকস সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার নিজের ছবিগুলোর সঙ্গে আনোয়ার ব্যবহার করেন সালমান খান, রানি মুখার্জি ও প্রীতি জিনতার সিনেমা ‘হার দিল জো প্যায়ার করেগা’-এর গান। ভারতের সফর শেষে বিদায়ের ভিডিওতে তিনি বেছে নেন ‘লক্ষ্য’ সিনেমার ‘কাঁধোঁ সে মিলতে হ্যায় কাঁধে’ গান। দুই গানেই ঐক্য ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা রয়েছে।
ভারত সফরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেন আনোয়ার। তাদের সঙ্গে খাবারের ছবি পোস্ট করে তিনি ব্যবহার করেন ‘বীর-জারা’ সিনেমার ‘আইসা দেশ হ্যায় মেরা’ গানটি, যেখানে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কথা উঠে এসেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিতেও ছিল বিশেষ গানের নির্বাচন। ওই পোস্টে ১৯৫৭ সালের সিনেমা ‘নয়া দৌর’-এর ‘সাথী হাত বাড়ানা’ গান ব্যবহার করেন আনোয়ার। একসঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা থাকায় গানটির নির্বাচনও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আনোয়ারের ছবির পোস্ট। সেখানে তিনি আমির খান অভিনীত ‘লগান’ সিনেমার ‘চলে চলো’ গানটি ব্যবহার করেন। গানটির মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই যেন তুলে ধরেছেন তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিমই অবশ্য একমাত্র বিদেশি নেতা নন, যিনি কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরতে বলিউডের গান ব্যবহার করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজিওনোও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফর ঘিরে ‘দিল ধড়কনে দো’ সিনেমার গান ব্যবহার করেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনকে সফল উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, বিভক্ত ও সংঘাতপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য, অংশীদার দেশ, আঞ্চলিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন মিলিয়ে মোট ৩২টি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ