আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) বুধবার সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন প্রত্যাশায় মঙ্গলবার ডলারের দামও শক্তিশালী হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৫.০২৬৬ শতাংশে উঠেছে। ২০০৭ সালের পর এটি সর্বোচ্চ। পরে সুদহার সামান্য কমে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে।
এদিকে, তেলের দামও চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৫ ডলারের ওপরে ছিল। ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের সৌদি আরবে নতুন হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-সংক্রান্ত আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ার কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বুধবার ফেড সুদের হার বাড়াবে, এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় নিশ্চিত। সিএমই ফেডওয়াচ টুলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৯২ শতাংশের বেশি দেখানো হয়েছে।
তবে মোনেক্স ইউএসএর কর্মকর্তা জুয়ান পেরেজ বলেন, ফেডের সিদ্ধান্তে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। ফেড সুদের হার বাড়ালেও ডলারের দাম খুব বেশি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে ফেডের বক্তব্যের ওপর।
বিশেষ করে চলতি বছরের শেষ দিকে এবং ডিসেম্বর মাসে সুদের হার নিয়ে ফেড কী ধরনের ইঙ্গিত দেয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক ০.১ শতাংশ বেড়ে ৯৯.৫৯৬-এ দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, ইউরোর দাম সামান্য কমে ১.১৫৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাউন্ডের দামও ০.০৩ শতাংশ কমে ১.৩৪৯৪ ডলারে নেমেছে।
জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। একপর্যায়ে এক ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম ১৫৫-এর নিচে নেমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। এর সঙ্গে তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ফেড আগামী দিনগুলোতেও সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে বিটকয়েনের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৭ হাজার ৯৯৭ ডলারে নেমেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ