এখনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণে আইন না করলে ভবিষ্যতে মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই মানুষের মনোযোগ ও আবেগকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সাংবাদিক ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব নিয়ে কাজ করার জন্যও তিনি পরিচিত।
এআই নিয়ন্ত্রণে আইন চান রেসা
রেসার মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য নাগরিকদেরই সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণ চাওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তার বিষয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যখন এআইকে নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়েও সমালোচনা
রেসা বলেন, এআইয়ের প্রভাবকে তিনি তিনটি ধাপে দেখছেন।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়েছে। এরপর চ্যাটবটের মাধ্যমে মানুষের আবেগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এখন এমন এআই তৈরি হচ্ছে, যা শুধু মানুষের মতো কথা বলবে না, বরং মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজও করবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি অনেক অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম মানুষের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। তাই শুধু কিশোরদের নয়, সবার জন্য এসব আসক্তিকর ফিচার কমানো বা বন্ধ করা উচিত।
চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতার যুক্তি মানেন না
যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণ করলে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে— এই যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছেন রেসা।
তার দাবি, চীন নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে সিলিকন ভ্যালির চেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনে টিকটকের বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করেন।
রেসা আরও বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রযুক্তির কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তার মতে, মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের জন্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে জনস্বার্থভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ