শাপলার শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার (৮ মে) শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শাপলার শহিদগাঁথা’ শীর্ষক স্মরণ ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, আমরা টাকা চাই না, অর্থ চাই না। আমরা চাই, রাষ্ট্র স্বীকার করুক যে শাপলার শহিদরা বাংলাদেশের ইসলামী ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য অসামান্য ত্যাগ ও কোরবানি দিয়ে গেছেন। আমরা চাই শাপলার শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হোক।
তিনি বলেন, এই শহিদরা শুধু কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ছিলেন না। তাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। বিএনপির কর্মী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন, জাতীয় পার্টির কর্মী ছিলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি সর্বজনীন আন্দোলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সময় বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি দুই দিনের হরতালের ডাক দিয়েছিলেন, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দল দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১২টি নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। এই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শাপলা শহিদদের স্মরণ করেছেন। সংসদে আমরা যে কারণে শাপলার শহিদদের স্মরণ করেছি, সেই কারণেই শহিদদের ব্যাপারে পরবর্তী দায়িত্বও আমরা গ্রহণ করব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ মে শাপলা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। সে সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। ঢাকায় যখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল, তখন আমাকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে বসে রেডিওতে আমি সেদিনের সংবাদ শুনেছি।
তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ যখন হেফাজতকে রাস্তা ছাড়ার কথা বলেছিলেন, তখন মাওলানা মামুনুল হকের অগ্নিগর্ভ বক্তব্য আমি রেডিওতে শুনেছিলাম। অন্যদিকে শেখ হাসিনা শাহবাগপন্থিদের উসকে দিয়েছিলেন। ৫ মের সমাবেশ কোনো দলের ছিল না; দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডআই