দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি সামরিক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগের মধ্যেই বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং ড্রোন অভিযান আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। এতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ধ্বংস ও আতঙ্ক বাড়ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৮ মে) দক্ষিণ লেবাননের সাইদা, নাবাতিয়েহ, টাইর এবং বেকা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা হয়। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সাইদার আনকুন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হন। জরারিয়েহ এলাকায় দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। নাবাতিয়েহ জেলার মেফদুন এলাকায় আরও একজন নিহত হন এবং একজন নারীসহ চারজন আহত হন।
হামলার আগে ইসরায়েলি বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ফলে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে শুরু করলেও, হামলা শুরুর আগে সবাই নিরাপদে পৌঁছাতে পারেননি। হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়ি অঞ্চলে বড় বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, বেসামরিক এলাকার ভেতরে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য উত্তর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখা।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান সংঘাতে মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ২,৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী বহু শহর ও গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে, আর অব্যাহত হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো।
আরবিএন