রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে বড় ধরনের হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী এক হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ ও শত শত ড্রোন হামলা।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া শতাধিক হামলা চালিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় অবস্থান লক্ষ্য করে ৮৫০টির বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, ৬ মে থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই সময়ে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ইউক্রেনের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং এ সময় যুদ্ধবন্দি বিনিময়ও করা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মার্কিন মধ্যস্থতায় এই সমঝোতার অংশ হিসেবে দুই দেশ এক হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অপরিহার্য হতে পারে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কোনো উদ্যোগ তারা নেবে না।
আরবিএন