পারমাণবিক ইস্যু আলোচনার একেবারে শেষ ধাপে থাকা উচিত : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি বা যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুকে একেবারে শেষ ধাপে রাখার পক্ষে অবস্থান

2026-05-09T20:37:06+00:00
2026-05-09T20:37:06+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পারমাণবিক ইস্যু আলোচনার একেবারে শেষ ধাপে থাকা উচিত : ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম 
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। সংগৃহীত ছবি
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি বা যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুকে একেবারে শেষ ধাপে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তেহরান থেকে রিপোর্ট করা সাংবাদিক আলমিগদাদ আলরুহাইদের মতে, ইরানের ১৪-দফা কৌশলগত পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশটি একটি ধাপে ধাপে সমাধান কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে, যেখানে প্রথমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের মতে, আলোচনার প্রথম শর্ত হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত এবং হিজবুল্লাহ-সম্পর্কিত সংঘাত বন্ধ না হলে কোনো রাজনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে তেহরান মনে করছে। ইরান এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে, যেখানে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানও সরাসরি যুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতেও ইরান একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তখনই কূটনৈতিক আলোচনায় এগিয়েছিল, যখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই এখনো তেহরান আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এরপর ইরান হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে “নতুন বাস্তবতা” হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তেহরানের দাবি, এই কৌশলগত জলপথে তাদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ এখন আগের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। তবে তারা এটাও বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনৈতিক অবরোধ বা নৌ-অবরোধ শিথিল করে, তাহলে ইরানও এই নিয়ন্ত্রণ কিছুটা নমনীয় করতে পারে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীর ইস্যুকে তারা কূটনৈতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।


ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। তেহরান চায় এমন আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক গ্যারান্টি, যাতে ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু না হয় এবং বর্তমান সংঘাতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাদের মতে, শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না।

এই সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরই ইরান সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু— পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি। তেহরান এই বিষয়টিকে আলোচনার সবচেয়ে জটিল অংশ হিসেবে উল্লেখ করছে এবং স্পষ্টভাবে বলছে, এটি শুরুতেই নয়, বরং সব রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু সমাধানের পরেই টেবিলে আনা উচিত।

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী আলোচনার অগ্রাধিকার কাঠামো হলো— প্রথমে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, এরপর নিষেধাজ্ঞা ও কৌশলগত জলপথের ইস্যু, তারপর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং সর্বশেষে পারমাণবিক ইস্যু। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে ইরান আলোচনাকে শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক সমঝোতার কাঠামোতে নিতে চায়।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ইরান  পারমাণবিক  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: