ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাতনায় এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর বিয়ের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কারাগারের একজন সাবেক কয়েদি এবং সেই কারাগারেরই সহকারী জেল সুপার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ধর্মেন্দ্র সিং এবং সাতনা সেন্ট্রাল জেলের সহকারী সুপার ফিরোজা খাতুনের এই প্রণয়কাহিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ৫ মে ছতরপুরে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালে, যখন ছতরপুরের চন্দলার বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র সিং পৌরসভার তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণ দত্ত দীক্ষিত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলে তিনি সাতনা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি হিসেবে দিন কাটাতে থাকেন। সেই সময়েই ফিরোজা খাতুন সেখানে সহকারী জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন এবং তাকে ‘ওয়ারেন্ট ইন-চার্জ’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেল সূত্রে জানা গেছে, ধর্মেন্দ্র ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত দাফতরিক কাজে কারা কর্মীদের নিয়মিত সাহায্য করতেন, যার ফলে ফিরোজার সঙ্গে তার প্রায়ই দেখা ও আলাপ হতো।
কর্মসূত্রে হওয়া সেই পরিচয় থেকেই মূলত দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তীতে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ১৪ বছর কারাদণ্ড ভোগের পর চার বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালে ধর্মেন্দ্র জেল থেকে মুক্তি পান।
কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে শুরু হওয়া সেই সম্পর্কের রেশ মুক্তি পাওয়ার পরও অটুট থাকে এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মেন্দ্র ও ফিরোজার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে তাঁদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং ধুমধাম করেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদ সরিয়ে রেখে জেলবন্দি এক আসামির সঙ্গে পদস্থ কারা কর্মকর্তার এই পরিণয় মধ্যপ্রদেশে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও অনেকেই একে মানবিক সম্পর্কের জয় হিসেবে দেখছেন। বিয়ের ছবিগুলো বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আইন ও কারাবিধি মেনে তাদের এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বর্তমানে ধর্মেন্দ্র সিং স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন এবং ফিরোজা খাতুন তাঁর পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নতুন সংসার শুরু করেছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সময়ের আলো/টিএইচ