হরমুজকে পারমাণবিক বোমার সঙ্গে তুলনা করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয়

2026-05-09T23:04:39+00:00
2026-05-09T23:04:39+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হরমুজকে পারমাণবিক বোমার সঙ্গে তুলনা করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম 
হরমুজ প্রণালী। ছবি : আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, হরমুজ এখন ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তিগুলোর একটি।

ইরানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য “পারমাণবিক বোমার মতো শক্তিশালী হাতিয়ার”। কারণ, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার (৯ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো নতুন প্রস্তাব এখনও পর্যালোচনা করছে তেহরান। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেব। আমেরিকার নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নেই। 

ইরানের সাবেক প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার বলেন, বহু বছর ধরে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এখন ইরান বুঝতে পেরেছে, এই প্রণালী তাদের জন্য বিশাল শক্তির উৎস।

তার ভাষায়, একটি সিদ্ধান্তেই যদি পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রভাবিত করা যায়, তাহলে সেটি পারমাণবিক বোমার মতোই শক্তিশালী। 

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজে যে নিয়ন্ত্রণ ইরান প্রতিষ্ঠা করেছে, তা কোনোভাবেই ছাড়বে না তেহরান। 

বর্তমান প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা খুব বেশি কার্যকর হবে না। বিশেষ করে তেলের রফতানি বন্ধের চেষ্টা মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

আরেফ দাবি করেন, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলে এই জলপথ নিরাপদ থাকবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোও উপকৃত হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার বাড়ানো হয়েছে। এক টিভি উপস্থাপক হরমুজ প্রণালীকে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ‘উহুদ যুদ্ধের গিরিপথ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এই পথ ছেড়ে দিলে ইরানের জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বার্তায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির পক্ষ থেকেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির পুরোনো একটি বক্তব্যও আবার প্রচার করছে দেশটির গণমাধ্যম। সেখানে তিনি বলেছিলেন, পারস্য উপসাগর যদি আমাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তাহলে আমরা অন্য কারও জন্যও এটি ব্যবহারযোগ্য থাকতে দেব না।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন সামরিক অভিযান চালুর কথাও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে। কট্টরপন্থি নেতারা পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলী খেজরিয়ান দাবি করেছেন, ইরান কোনো পারমাণবিক আলোচনা করছে না।

তার অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতা আড়াল করতেই সম্ভাব্য চুক্তির কথা প্রচার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বেইজিং সফর করেছেন। সেখানে তিনি চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় ইরানের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন আরাঘচি। 


/ইউএমএইচ





  বিষয়:   হরমুজ প্রণালী  ইরান  পারমাণবিক  বোমা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: