প্রায় ৬০ বছরের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে ভারতের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও তমিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান বিজয়। এর মাধ্যমে ১৯৬০-এর দশকের পর এই প্রথম ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র বাইরে কোনো দল রাজ্যটির শাসনভার গ্রহণ করল। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানে ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা-রাজনীতিককে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
বিজয়ের সঙ্গে আজ নয়জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা ও তরুণ মুখের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত বর্ষীয়ান নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন বিজয়ের বিশ্বস্ত কৌশলী আধভ অর্জুন, ২৮ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এস কীর্তনা এবং সাবেক কর কর্মকর্তা অরুণরাজ। এছাড়াও রয়েছেন বিসি আনন্দ, সিটিআর নির্মল কুমার, ডেন্টিস্ট কেটি প্রভু, রাজমোহন ও পি ভেঙ্কটরামানন।
মাত্র দুই বছর আগে গঠিত টিভিকে এবারের নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে টানা চার দিন রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে চার দফা বৈঠক ও রুদ্ধশ্বাস দরকষাকষি করতে হয় বিজয়কে। প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে বাম দলগুলোর (সিপিআই ও সিপিআই-এম) সমর্থন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দুই আসন দূরে ছিলেন তিনি। অবশেষে গত শনিবার বিকেলে ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের মিত্র ভিসিকে ও আইইউএমএল সমর্থন দেওয়ায় ১২০ সদস্যের শক্তি নিয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেন তিনি।
১৯৭৪ সালে জন্ম নেওয়া বিজয়ের রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল শিশু শিল্পী হিসেবে। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি ‘নালাইয়া থেরপু’ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন। পরবর্তীতে ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মেরসাল’, ‘বিগিল’ ও ‘লিও’-র মতো ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়ে হয়ে ওঠেন তামিল সিনেমার অবিসংবাদিত ‘থালাপথি’ (সেনাপতি)। ২০২৪ সালে চলচ্চিত্র জগতকে বিদায় জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নামেন তিনি।
/কহু