দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর অবশেষে জনসমক্ষে এলেন ইরানের প্রভাবশালী আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর প্রধান জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদী। সদ্যপ্রয়াত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বহু-দিনব্যাপী শেষকৃত্য ও দাফন প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে তাকে প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ৮৬ বছর বয়সী প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন জেনারেল ওয়াহিদী। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে খামেনির সাবেক বাসভবন সংলগ্ন ইমাম খোমেনি হোসাইনিয়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত ও অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির কফিনের পাশে তাকে গম্ভীর মুখে বসে থাকতে দেখা যায়।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে— অর্থাৎ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই জেনারেল ওয়াহিদীর কোনো খোঁজ মিলছিল না। যুদ্ধকালীন এই চরম সংকটে এবং দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তার এই আকস্মিক আত্মগোপন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য স্থায়ী শর্তাবলী ও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের কট্টর অবস্থান বজায় রাখার পেছনে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছেন এই জেনারেল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের নতুন এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারক চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনিও বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসাধীন বা আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ শুক্রবার সকালে তেহরানের প্রধান মসজিদ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লা কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এক টেলিগ্রাম বার্তায় নিশ্চিত করেছে, বিপ্লবী নেতার পবিত্র মরদেহ এখন গ্র্যান্ড মুসাল্লায় শায়িত রয়েছে।
আগামী ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশজুড়ে পাঁচ দিনের যে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার পুরো নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস পরিকল্পনা এখন জেনারেল ওয়াহিদীর বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। ওয়ানইন্ডিয়া ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াহিদীর এই প্রকাশ্যে আগমন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশাসনে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সময়ের আলো/কহু