ডিমের বাজার হঠাৎ কেন অস্থির

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

হঠাৎই অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে খামারের ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে

2026-05-11T06:35:14+00:00
2026-05-11T08:55:55+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
ডজনে বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা
ডিমের বাজার হঠাৎ কেন অস্থির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৬:৩৫ এএম  আপডেট: ১১.০৫.২০২৬ ৮:৫৫ এএম
হঠাৎই অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। ছবি : সংগৃহীত
হঠাৎই অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে খামারের ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে ডজনে ৪০ টাকার মতো বেড়েছে। 

এভাবে দাম বৃদ্ধির কারণে বেশি বিপদে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে যাদের খাদ্য তালিকায় ডিম নিত্যসঙ্গী, তাদের খরচ আরও বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তে তথা পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। এ কারণে তাদের বাড়াতে হয়েছে। তবে আড়তদার বা পাইকারি ব্যবসায়ী ও খামারি একে অন্যকে দুষছেন। 

প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, তারা ডিম উৎপাদন করলেও বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ঢাকার আড়তদাররা বিশেষ করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির বেঁধে দেওয়া দামে সারা দেশে ডিম কেনাবেচা হয়। 

বাজারের চাবিকাঠি তাদের হাতেই। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ঢাকার তেজগাঁওয়ের ডিম ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশের আনাচে-কানাচে ডিম উৎপাদন হয়। দৈনিক লাখ লাখ ডিম উৎপাদন ও কেনাবেচা হয়। সে তুলনায় তেজগাঁওয়ে যে ডিম বিক্রি হয় তা খুবই সামান্য।

চাহিদা কম থাকায় রমজানে বেশ কমে গিয়েছিল ডিমের দাম। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০-২৫ দিন আগেও ডিমের ডজন ৯৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। 

গত সপ্তাহ থেকে আরও বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোববার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের বাদামি রংঙের ডিমের ডজন ১৪০ ও সাদা রংয়ের ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লা ও এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোতে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে। 

মহল্লায় বেশিরভাগ ক্রেতা এক হালি বা দুই হালি হিসেবে ডিম কিনেন। বিক্রেতারা প্রতি হালির দাম নিচ্ছেন ৫০ টাকা। সেই হিসাবে ডজন পড়ে ১৫০ টাকা। সাধারণত বাজারে বাদামি রংয়ের ডিমের চাহিদা বেশি।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। সংস্থাটি বলছে, গত এক মাসে ২২ শতাংশ ও এক বছরের ব্যবধানে ৮ শতাংশ দাম বেড়েছে ডিমের। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নিত্যপণ্যের বাজারে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। 

এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে ডিম। খাদ্য মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিক চাপে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসছে। মাছ-মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ডিমের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। 

এখন ডিমের দামও বাড়ায় পুষ্টি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরা বলেন, ডিম কম আসায় পাইকারি বাজারে দর বেড়ে গেছে। মাসখানেক আগে মুরগির দাম বেশি ছিল। দাম পাওয়ার আশায় তখন অনেকেই ডিমপাড়া মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে ডিমের কিছুটা সংকট হতে পারে।

প্রান্তিক খামারিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ঢাকার তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা দেশের ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। 

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। তিনি বলেন, বারবার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিয়ে অনেক আগে থেকে বলা হচ্ছে প্রান্তিক খামারিরা ডিম উৎপাদন করে, কিন্তু দাম নির্ধারণ করে ডিম ব্যবসায়ী সমিতিগুলো। বিশেষ করে মূল ভূমিকায় থাকে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দাম বাড়ায় বা কমায়। 

তিনি বলেন, মাসখানেক আগে যখন ডিমের দাম কম ছিল তখন মজুদদাররা হিমাগারে ডিম মজুদ করেছিল। কীভাবে ডিম মজুদ করা যায় তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। 

তার ভাষ্য, হিমাগারে চার-পাঁচ মাস ডিম সংরক্ষণ করা যায়। যেমন এক সপ্তাহ ধরে একটি হিমাগারে একসঙ্গে তিন লাখ পিস ডিম রাখা হলো। ১৫ দিন পর এক লাখ পিস বের করা হলো। আবার দুই লাখ পিস ঢুকানো হলো। 

এভাবে মজুদ করা হয়। যখন দাম বাড়ে তখন তারা বাজারে বেশি দামে মজুদ ডিম ছাড়ে। কিন্তু প্রান্তিক খামারিদের ডিম সংগ্রহ কমিয়ে দেয়। ফলে প্রান্তিক খামারিরা কম দামে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু মজুদদার বা বড় ব্যবসায়ীরা মুনাফা লুফে নেন। দুই থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত হিমাগারে ডিম সংরক্ষণ করা যায় বলে জানান এই খামারি।

এসব অভিযোগের কোনো তোয়াক্কা করছেন না পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, অযৌক্তিকভাবে ২০২২ সাল থেকে তাদের ওপর এভাবে দোষ চাপানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ সারা দেশে হাজার হাজার ব্যবসায়ী রয়েছে। 

এখানে এককভাবে দাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, এক মাস আগে দাম কম ছিল, তখন খামারিরা লোকসান দিয়েছেন। অনেকেই ডিমপাড়া মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তারা দাম বাড়াচ্ছেন। তা ছাড়া কিছু দিন আগে গরম ও ভাইরাসের কারণে অনেক মুরগি মারা গেছে। অন্যদিকে স্কুলগুলোতে টিফিনে ডিম যুক্ত হয়েছে। এসব কারণে দাম বাড়ছে।

ভোক্তা সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডিম ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাদ্য। এখন ডিমের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যয় আরও চাপে পড়েছে। 

উৎপাদন পর্যায়ে ডিমের দাম যতটা বাড়ছে, ভোক্তা পর্যায়ে তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের অভিযোগও নতুন নয়।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব এবং উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে ডিমের বাজার বারবার অস্থির হয়ে উঠছে। 

দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার, মজুদ ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং উৎপাদক পর্যায়ে সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তিন।

/এসএকে


  বিষয়:   টাকা  ডিম  বাজার 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: