দেশের জুয়েলারি বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো স্বর্ণ ও রুপার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে, যা শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সারাদেশে সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দামেই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।
সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড ও পিওর সিলভারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যই কার্যকর থাকবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘোষিত দামের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
এর আগে ২৫ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই দামের সঙ্গে আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা যোগ হয়েছে। একই সময়ে প্রতি ভরি রুপার দামও ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৮২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বেড়েছে, ৪০ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে রুপার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে ৫০ বার; যার মধ্যে ২৫ বার বৃদ্ধি এবং ২৫ বার হ্রাস পেয়েছে।
এএডি/