পৃথিবীর কোনো কিছুই সবসময় একই গতিতে চলে না। মানুষের জীবনও এক নিয়মে চলে না, কখনো সুখ, কখনো দুঃখ। আল্লাহ তাআলা মাঝে মাঝে বিপদ-আপদের মাধ্যমে বান্দাকে পরীক্ষা করেন। ঈমানকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ দেন। তাই সব সময় আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও নিরাপত্তার দোয়া করা উচিত।
কল্যাণ ও হেফাজতের জন্য মহান আল্লাহ আমাদের কিছু বিশেষ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। নিচে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দোয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে দৈহিক, মানসিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা দান করেন।
১. ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।’ (আবু দাউদ: ৫০৯৫)
২. আয়াতুল কুরসি
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, সে পরবর্তী নামাজ পর্যন্ত আল্লাহর হেফাজতে থাকবে।’
(তাবরানি কাবির: ৩/৮৩; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ২/১৪৮)
আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসেবে পরিচিত। এতে আল্লাহ তাআলার সীমাহীন ক্ষমতা, জ্ঞান ও রাজত্বের পূর্ণতা বর্ণনা করা হয়েছে।
পৃথিবী ও আখিরাতের সকল ধরনের বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে, আল্লাহর হেফাজত লাভ করতে এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য এই দোয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন আত্মিক শান্তি, শারীরিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করতে পারেন।
/এসএকে