হামের টিকা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশেষ অভিযান। এখনো যে-সব শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করে সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ কাজ চলবে ২০ মে পর্যন্ত। তবে বড়ো শহরগুলোর ভাসমান ও ছিন্নমূল শিশুদের শনাক্ত করা এই কার্যক্রমে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে দেশের সব সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি শুরু করেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি এলাকায় কমপক্ষে ২০টি করে বাড়ি পরিদর্শন করে দ্রুত যাচাই বা আরসিএম (র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং) পদ্ধতির মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিকটস্থ কেন্দ্রে তাদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২ থেকে ৩ শতাংশ শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাদ পড়া শিশু শনাক্ত করার কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ২০টি পরিবার ঘুরে ৩ থেকে ৪ জন শিশুর টিকা না নেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শহরের ভাসমান শিশুদের সুরক্ষায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়েছে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তার পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স নামানো হয়েছে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে, বড়ো সেতুর ওপর, পার্ক বা চিড়িয়াখানার মতো জনসমাগমস্থলগুলোতে ঘুরে ঘুরে ভাসমান শিশুদের টিকা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখনো প্রায় ১৬ হাজার ৯৩৮ জন শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭৯ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে।
এদিকে হাম পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্রও সামনে এসেছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনই ঢাকার।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে মোট ৪১৫ জন শিশু। একইসাথে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৪১ জন শিশুর শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সময়ের আলো/জেডি