লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর রাজনীতিতে নাটকীয়তা যেন শেষই হচ্ছে না। আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার ৫ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস। গতকাল মঙ্গলবার সানচেজের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ যেদিন নিশ্চিত করল যে সানচেজ দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে টিকে গেছেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আইনি খড়্গ নেমে এল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এল কমার্সিও’র বরাতে জানা গেছে, সানচেজের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ নির্বাচনী তহবিলের তথ্য গোপনের। কৌঁসুলিদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ‘জুনতোস পর এল পেরু’ দলের হয়ে প্রচারণার সময় সানচেজ ও তার ভাই উইলিয়াম সানচেজ প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার পেরুভিয়ান সোল (প্রায় ৮২ হাজার ডলার) অনুদান গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনী দপ্তরে জমা দেওয়া নথিতে এই বিপুল অর্থের কোনো উল্লেখ ছিল না। এই জালিয়াতির দায়ে তাকে শুধু জেলেই নয়, বরং রাজনীতি থেকেও স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রথম দফার ভোট গণনা প্রায় শেষ (৯৯.৭৬ শতাংশ)। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রক্ষণশীল নেত্রী কেইকো ফুজিমোরি ১৭.১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট পেড্রো কাস্তিলোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রবার্তো সানচেজ। তবে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন উগ্র-রক্ষণশীল সাবেক মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা, যার সঙ্গে সানচেজের ভোটের ব্যবধান মাত্র ১৫ হাজার।
সানচেজের আইনজীবীরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, দলীয় তহবিলের হিসাব রাখার দায়িত্ব কোষাধ্যক্ষের, প্রার্থীর নয়। তবে আগামী ২৭ মে আদালত ঠিক করবে এই মামলাটি বিচারে উঠবে কি না। আগামী ১৫ মে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
/কহু