রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রস্থল কুদ্রিনস্কায়া স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টালিন আমলের সাতটি বহুতল ভবনের একটির নিচতলায় অবস্থিত বালজি রসি রেস্তোরাঁর কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একজন নারী বহন করা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি (ইম্প্রোভাইজড) বিস্ফোরক থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে।
রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রথমে রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার কথা জানালেও পরে আহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২১ জনে পৌঁছায়।
ঘটনার পরপরই সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী রেস্তোরাঁটি ঘিরে ফেলে এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনে।
প্রথমদিকে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও পরে রাশিয়ার জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি জানায়, এটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের ঘটনা।
কমিটির দাবি, বিস্ফোরক বহনকারী ওই নারী রেস্তোরাঁয় প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষী তাকে বাধা দেন। এতে বিস্ফোরণ ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ওই নিরাপত্তারক্ষী, বিস্ফোরক বহনকারী নারী এবং রেস্তোরাঁর এক অতিথি। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ পর্যন্ত নিহত বা আহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। হামলার ঘটনায় কোনো সন্দেহভাজনের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে, টেলিগ্রামভিত্তিক পর্যবেক্ষণ চ্যানেল অ্যাস্ট্রা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, বিস্ফোরণের সময় রেস্তোরাঁর কাছে এক রুশ জেনারেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিল। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং রুশ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
রুশ দৈনিক কমার্সান্ত নিজেদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রেস্তোরাঁর খোলা অংশে থাকা অতিথিদের লক্ষ্য করেই বোমাটি রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরকটি দূর থেকে অন্য কেউ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে এবং যিনি এটি বহন করছিলেন, তিনি সেটি বোমা ছিল কি না তা জানতেন না বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনার সময় রেস্তোরাঁটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ, দমকল ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পর চলতি বছর রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি জানিয়েছিল, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। কিয়েভের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও তুলেছিল মস্কো।
সময়ের আলো/কেএইচ