ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের প্রশ্ন যত প্রকাশ্যে আসছে, ততই এক জায়গায় আসছে বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও সিপিএমও এবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একই কথা বলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে কেরলের সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির। একই সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন মমতা।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের মহাবৈঠক হতে পারে। সেখানে নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে যৌথ আন্দোলনের পথ ঠিক করা হতে পারে।
এই তৎপরতার পেছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের আপত্তি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের আপত্তির মধ্যে ছিল নতুন ভোটারের নাম তোলা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, বাদ পড়া নাম ফের যুক্ত করা, ভোটার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং এসআইআর- এর বিভিন্ন প্রক্রিয়া। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তাদের জানানো বা সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ২৩ সেপ্টেম্বর মমতা- সহ বিরোধী নেতাদের চিঠি লিখে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের একসঙ্গে আলোচনা করা দরকার। পরে মমতার সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়।
মমতা পরবর্তীতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেন এবং দ্রুত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানান। সোমবার বা মঙ্গলবার বৈঠক করার কথা প্রথমে আলোচনায় থাকলেও পরে ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বৈঠকের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য নতুন করে সংসদে নোটিস দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। আইনি পরামর্শ নিয়ে নোটিশটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, বিজেপি বিরোধীদের এই তৎপরতার সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিরোধীরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিশানা করছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারাও মমতা-বেবির যোগাযোগ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের প্রশ্নে আটকে নেই। তা ক্রমেই বিরোধী দলগুলির যৌথ রাজনৈতিক প্রতিবাদের কেন্দ্রে চলে আসছে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক তাই এই বিতর্কে নতুন মোড় আনতে পারে। সেখানে বিরোধীরা কী অবস্থান নেয়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে নতুন নোটিশ দেওয়া হয় কি না এবং এসআইআর নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি কী হয় সেদিকেই এখন নজর।
সময়ের আলো/জেকিউএফ