মার্কিন পেশাদার বাস্কেটবল লিগের (এনবিএ) কিংবদন্তি খেলোয়াড় জেসন কলিন্স আর নেই। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মস্তিষ্কের ক্যানসারের (গ্লিওব্লাস্টোমা) সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশটির ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এনবিএ) পক্ষ থেকে তার পরিবারের দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে জেসন কলিন্স প্রথম প্রকাশ করেন যে, তিনি মস্তিষ্কের এক অতি আগ্রাসী ও অপারেশনের অযোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছিলেন। কলিন্স তখন বলেছিলেন, “এই টিউমারটি একটি দানবের মতো, যার শুঁড় আমার মস্তিষ্কের তলায় বেসবলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।” জীবনকে ভালোবাসার এক অদম্য বাসনা নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে কেমোথেরাপি ও উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
জেসন কলিন্স কেবল একজন খেলোয়াড়ই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রীড়া বিশ্বে সংস্কারের অগ্রদূত। ২০১৩ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ সাময়িকীতে এক নিবন্ধ লিখে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “আমি এনবিএ-র একজন ৩৪ বছর বয়সী সেন্টার। আমি কৃষ্ণাঙ্গ এবং আমি সমকামী।” কোনো বড় মার্কিন পেশাদার লিগের সক্রিয় অ্যাথলিট হিসেবে কলিন্সই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি প্রকাশ্যে নিজের সমকামী পরিচয় দিয়েছিলেন। তার এই সাহসী সিদ্ধান্ত তখন সমকামী অধিকার আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
এনবিএ কমিশনার অ্যাডাম সিলভার এক শোকবার্তায় বলেন, “জেসন কলিন্সের প্রভাব বাস্কেটবল কোর্টের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। তিনি এনবিএ এবং ক্রীড়া জগতকে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গেছেন।” তার সাবেক দল ব্রুকলিন নেটস এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি কোচ মাইক মন্টগোমারিও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ক্যালফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া কলিন্স স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ১৩ বছরের দীর্ঘ এনবিএ ক্যারিয়ারে তিনি ব্রুকলিন নেটসসহ মোট ছয়টি দলের হয়ে খেলেছেন। জেসন তার খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন অদম্য ছিলেন, ব্যক্তি জীবনেও ছিলেন তেমনি অমায়িক ও দয়ালু। ২০১৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন অগণিত ভক্ত এবং অনুপ্রেরণার এক মহীয়ান ইতিহাস। জেসন কলিন্স আমাদের শিখিয়ে গেছেন, শত বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের সত্য পরিচয়ে অটল থাকাটাই জীবনের সবথেকে বড় জয়। ওপারে ভালো থাকুন এই অকুতোভয় লড়াকু অ্যাথলিট।
/কহু