দেশের আইন অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে আদালতপাড়া। সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪টি পদে নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন হাজারো আইনজীবী।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি রাখা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯৭ জন। কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪০ জন প্রার্থী। নির্বাচনকে ঘিরে আদালত এলাকায় দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন পেতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেল, জামায়াতপন্থী সবুজ প্যানেল এবং এনসিপি-সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সম্পাদক পদে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী। এছাড়া সহ-সভাপতি, সহ-সম্পাদক ও সদস্য পদেও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন আবদুল বাতেন। সম্পাদক পদে রয়েছেন এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার। এই প্যানেলেও সব গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী রয়েছে।
এনসিপি-সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল সভাপতি পদে কাউকে না দিলেও সম্পাদকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী দিয়েছে।
দলীয় প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্য পদে তারা ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্রদের উপস্থিতিও এবারের নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন উপকমিটি। সমিতি সূত্র বলছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। দ্বিতীয় দিনের ভোট শেষে গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে দেশের আইনজীবীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হয়। এই নির্বাচনের ফলাফল অনেক সময় জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলনও তুলে ধরে।
এএডি/