ইসলামে কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর উপর কোরবানি ওয়াজিব। আদম আ. এর যুগে শুরু হয়ে পত্যেক যুগেই এই কোরবানি ছিলো। কিন্তু এর পন্থা ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। মুহাম্মদ স. এর উম্মতের জন্য কোরবানি মিল্লাতে ইবরাহীমীর সুন্নত। এই কোরবানির মাধ্যমে গরীব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। সুতরাং আমরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি দেব। এ ক্ষেত্রে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানিটা যেন সহিহ হয়। যার উট কোরবানির সামর্থ্য আছে তিনি উট কোরবানি দেবে। আবার যার দুম্বা বা ছাগল কোরবানির সামর্থ্য আছে তিনি তাই দেবেন। অনেকে ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে, উট, গরু আর মহিষ ছাড়া কোনো প্রাণিতে ভাগে কোরবানি দেওয়া যাবে না।
হজরত জাবের রা. থেকে হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আমরা নবীজি সা.-এর সঙ্গে হজ করেছিলাম, সে সময় একটি উট এবং একটি গরুতে আমরা সাতজন করে শরিক হয়ে কোরবানি করেছি। (মুসলিম : ১৩১৮)
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, উট, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত ভাগে কোরবানি করা যাবে। এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যায়, যেমন : দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগেও কোরবানি করা জায়েজ। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (৫/৩০৪)
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। শরিকে কোরবানির ক্ষেত্রে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ ন্যূনতম এক-সপ্তমাংশ হওয়া জরুরি। যদি কোনো একজনের অংশ এর চেয়ে কম হয়, তাহলে সকল শরিকের কোরবানি অশুদ্ধ হয়ে যাবে। ( বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭১ )
কোনো ব্যক্তি যদি গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছেয় কিনে আনে, আর সে একা কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাহলে সে এ পশুতে অন্য কাউকে শরিক করতে পারবে। জায়েজ আছে। তবে শরিক না করে উত্তম।
যদি কেউ শরিক করেন তাহলে ওই অংশের টাকা তিনি সদকা করে দেবেন। এটাই তার জন্য উত্তম। যে ব্যক্তি গরিব হওয়ায় তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, সে যদি কোরবানির নিয়তে কোনো পশু কেনে, তাহলে সেই পশুটি পুরোপুরি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়ে যায়।
তাই পরে এতে অন্য কাউকে শরিক করা জায়েজ নেই। যদি কাউকে শরিক করা হয়, তবে প্রাপ্ত অর্থ সদকা করে দেওয়া আবশ্যক। তবে শুরুতেই শরিক করার নিয়ত থাকলে, পশু কেনার সময় তা নির্ধারণ করে নিলে শরিক করা জায়েজ আছে। (হেদায়া ৪/৪৪৩; ফাতাওয়া কাজিখান ৩/৩৫০–৩৫১)
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা শরিকে কোরবানি দেবেন, তারা কোরবানির গোস্ত ওজর করে ভাগ করবেন । অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নেই। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭,কাযিখান ৩/৩৫১)
/এসএকে