জুমার খুতবা চলাকালে নামাজ আদায় করা যাবে?

সময়ের আলো ডেস্ক

ইসলাম

মুসলমানদের জন্য শুক্রবারের দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আল্লাহর কাছেও সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ

2026-09-04T12:57:58+00:00
2026-09-04T13:00:40+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
জুমার খুতবা চলাকালে নামাজ আদায় করা যাবে?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম 
জুমার খুতবা। ছবি : সংগৃহীত
মুসলমানদের জন্য শুক্রবারের দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আল্লাহর কাছেও সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)

Advertisement
জুমার খুতবা শোনা গুরুত্বপূর্ণ আমল। খুতবা জুমার নামাজের শর্ত ও ফরজ। খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে উত্তমভাবে অজু করে জুমায় এসে চুপ করে মনোযোগসহকারে (খুতবা) শুনল, তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)


উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে নিরর্থক কাজে ব্যস্ত থাকা শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে ‘চুপ করো’ বলো, সেটাও অনর্থক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯২)

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, খুতবার সময় নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব ও কথাবার্তা বলা হারাম। তেমনিভাবে খুতবার সময় সুন্নত-নফল নামাজ পড়াও বৈধ নয়। হাদিসে আছে, ‘যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হবেন, তখন নামাজ পড়বে না, কথাও বলবে না।’ (মেশকাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৩২)

হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব ও জুহরি (রহ.) বলেন, ‘ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১০৩-১০৪)

৪ রাকাত সুন্নত বা নফল নামাজ আদায় করা অবস্থায় খুতবা শুরু হয়ে গেলে দুই রাকাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরিয়ে নিতে হবে। তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলে তৃতীয় রাকাতের সেজদা না করে থাকলে বসে যেতে হবে এবং সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। উভয় অবস্থায় জুমার পর ওই চার রাকাত সুন্নত পড়ে নেওয়া উত্তম। তৃতীয় রাকাতের সেজদা করে ফেললে চার রাকাতই পূর্ণ করতে হবে।

খুতবা চলাকালে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবিহ-তাহলিল পড়াও যাবে না। আবু জর (রা.) বলেন, ‘একদিন নবী (সা.) খুতবায় সুরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বার বার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই (রা.) বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে উবাই (রা).-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে।’ (সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৮০৭)

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   জুমা  খুতবা  নামাজ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: