প্রযুক্তি আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছে। চুরি করে নিয়েছে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ-অনুভূতি। মানুষের সবচেয়ে আপন জায়গা পরিবার। প্রযুক্তির নেশা আর কাজের ব্যস্ততা পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পথে এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাধা কীভাবে উপড়ে ফেলা যায়, সে পদ্ধতি জানা প্রয়োজন আমাদের। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি আমরা মানবতার দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিই।
তিনি ছিলেন পরিবারকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অনন্য আদর্শ। তিনি নবুয়তের দায়িত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা, মানুষের দাওয়াত ও ইবাদতের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদেরও যথেষ্ট সময় দিতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন ঘরে থাকতেন, তখন পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য চলে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি)।
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, পরিবারের কাজে সহযোগিতা করা মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। তিনি ঘরের কাজকে ছোট মনে করতেন না। বরং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটাতেন।
মহানবী (সা.) তার স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি)।
শুধু স্ত্রীদের নয়, শিশুদের প্রতিও তার ছিল গভীর মমতা। তিনি শিশুদের সালাম দিতেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতেন এবং স্নেহ করতেন।
একবার তিনি তার নাতি হাসান (রা.)-কে চুমু দেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, তার দশ সন্তান আছে, কিন্তু তিনি কাউকে চুমু দেননি। জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হবে না।’ (সহিহ মুসলিম)।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও তার জীবনের অংশ ছিল। হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তিনি দৌড় প্রতিযোগিতাও করেছিলেন। (সুনান আবু দাউদ)।
নবীজি (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়— পরিবারকে সময় দেওয়া শুধু দায়িত্ব নয়, এটি ইবাদতেরও অংশ হতে পারে।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, তাদের কথা মন দিয়ে শোনা, কাজে সহযোগিতা করা, সন্তানদের স্নেহ করা এবং স্ত্রীদের সম্মান করা— এসবের মধ্যেই রয়েছে সুন্দর পারিবারিক জীবনের শিক্ষা।
তাই ব্যস্ত জীবনে পরিবারকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর আদর্শ।
সময়ের আলো/এসএকে