পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতর ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ উৎসবের ছুটির মধ্যেও এসব জরুরি সেবামূলক অফিসগুলো নিয়মিতভাবে খোলা থাকবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) সব অফিস যথারীতি খোলা থাকবে এবং ২৫ মে (সোমবার) থেকে আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হয়ে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত চলবে। জরুরি সেবার তালিকায় বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির সময়েও তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই ছুটি প্রযোজ্য হবে না।
আর্থিক খাত ও বিচার বিভাগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক সেবা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হবে।
এ ছাড়া বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কল-কারখানাগুলোর ছুটির বিষয়টি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। মূলত উৎপাদনমুখী খাত ও জনগুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই দীর্ঘ ছুটির ঘোষণায় নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে উৎসবের দিনগুলোতেও নাগরিক পরিষেবা সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে।
সময়ের আলো/টিএইচ