রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব দ্রুতই চীন সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই উচ্চপর্যায়ের সফরের কথা জানান।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও ভ্রমণের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর জোরালো ধারণা, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুতিন বেইজিংয়ে পৌঁছাতে পারেন। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফর করেছিলেন, যেখানে তিনি চীনের বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ এবং একটি আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।
পুতিনের এই সম্ভাব্য সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এটিই প্রথম চীন সফর। পুতিনের আসন্ন সফরের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত মিত্রতা আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এবং ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই পুতিনের আগমন বেইজিংকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
পুতিনের সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে চীনের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিরই অংশ।
পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার টানাপড়েন চলাকালে বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর এই ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটনের জন্য একটি নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে এশীয় অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব ও অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
সময়ের আলো/টিএইচ