বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা বৃদ্ধি ও নীতিমালার সমন্বয়হীনতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নতুন সরকার, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের জন্য নতুন আশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অংশীজনদের সংগঠন ‘ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (উৎসব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেন্টার ফর ট্যুরিজম স্টাডিজের চেয়ারম্যান জামিল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ খাতটির মধ্যে বিভাজন, গবেষণার অভাব এবং নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা। তিনি অভিযোগ করেন, এখনো দেশে কার্যকর ও সমন্বিত পর্যটন আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক সরকার নীতিনির্ধারণ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে সরকারের ওপর সমন্বিত চাপ তৈরি করতে বেসরকারি খাতকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী। এতে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, সঠিক তথ্য ও বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা অসম্ভব। তিনি এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যটন শিল্পের পেশাদারদের অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের উপ-পরিচালক বোরহানুদ্দিন জানান, বাজেট ও জনবল সংকট সত্ত্বেও তারা গ্রামীণ ঐতিহ্য ও দেশীয় পণ্য নিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, পর্যটন বিশেষজ্ঞ ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া পর্যটন পরিকল্পনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।
এটিজেএফবি সভাপতি তানজিম আনোয়ার ইন্দোনেশিয়ার বালির উদাহরণ দিয়ে বলেন, সঠিক বিপণনের অভাবে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও গ্রামীণ ঐতিহ্য এখনো বাণিজ্যিক রূপ পায়নি।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সতর্ক করে বলেন যে, বিভ্রান্তিকর ব্র্যান্ডিং পরিহার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাস্তবসম্মত কৌশল গ্রহণ করতে পারলেই বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।
সময়ের আলো/জেডি