বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) শিরোপার ফয়সালা আজই হতে পারে। এক দলের ক্ষেত্রে সমীকরণ একদমই পরিষ্কার। আবাহনীকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। হেরে গেলে কিংবা ড্র করলে বিপদ বাড়বে। তাতে লিগের শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে (আঠারোতম রাউন্ড) দেশের শীর্ষ ক্লাবটিকে।
অবশ্য আবাহনীর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন গল্প রয়েছে। কিংসের বিপক্ষে জেতার পরও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ছোঁয়া হবে না। লিগের শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে আকাশি-নীলদের। কুমিল্লার শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ৪টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচে অংশ নিতে দুদলই এখন কুমিল্লায় অবস্থান করছে।
একটা সময় লিগে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল আবাহনীর। বিশেষ করে পেশাদার লিগ শুরুর পর থেকে। তবে ২০১৮ সালে বদলে যায় দৃশ্যপট। কিংসের অপ্রতিরোধ্য চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনের যাত্রা থামিয়ে দেয় আবাহনীর শিরোপার দৌড়। টানা পাঁচ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় করপোরেট ক্লাবটি।
গত আসরেও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেবার মোহামেডানের সঙ্গে আর পেরে উঠেনি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান এবার অবশ্য রেসে নেই। তাই কিংসের পথের কাঁটা কেবলই আবাহনী। ১৬ ম্যাচ শেষে ১০ জয়, ৫ ড্র এবং এক হারে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান কিংসের। সমান সংখ্যক ম্যাচে ১ পয়েন্ট কম নিয়ে পরের অবস্থানে আবাহনী। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ফর্টিস এফসি।
আজ জিতলে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা জিতে যাবে বসুন্ধরা কিংস। আবাহনী জিতলে হবে ৩৭ পয়েন্ট। সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে আবাহনী যদি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে হেরে যায়, অন্যদিকে নিজেদের শেষ ম্যাচে কিংস যদি ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্সকে হারায়, তা হলেও চ্যাম্পিয়ন হবে কিংস।
অন্যদিকে কিংসকে হারানোর পর লিগ টাইটেল জিততে শেষ রাউন্ডে আবাহনীকে জিততে হবে, ড্র করলেও কিং-ফকিরেরপুল ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। তাই দুদলেরই শিরোপা জেতার উজ্জ¦ল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবাহনীর চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে কিংস।
এবারের লিগে শুরু থেকে কিন্তু আবাহনী আলোচনায় ছিল না। প্রথম লেগে শিরোপা রেস থেকে বেশ দূরেই ছিল মারুফুল হকের দল। তবে দ্বিতীয় লেগে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে ধানমন্ডির দল।
লিগের ১২তম রাউন্ড পর্যন্ত কিংসের সঙ্গে শিরোপার দৌড়ে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছিল ফর্টিস। এমনকি প্রথম লেগে কিংসের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষেও ছিল ফর্টিস। তবে দ্বিতীয় লেগে আবাহনীর কাছে হেরে এবং আরামবাগের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট টেবিলে পিছিয়ে পড়ে। আর আবাহনী টানা ৫ ম্যাচ জিতে শিরোপা রেসে ফিরে আসে।
লিগের প্রথম লেগে কিংস-আবাহনীর ম্যাচটি বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ২-২ গোলে ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল। ওই ম্যাচের ফল বলছে এবারের ম্যাচটিও উত্তেজনাপূর্ণ হবে। তীব্র লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে কিংস-আবাহনী।
এ ম্যাচেই নিষ্পত্তি হবে শিরোপার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সামনে রেখে গতকাল দুদলই কুমিল্লা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে। তবে অনুশীলন শেষে সময়ের আলোর পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে কিংসের কোচ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের কেউ কল রিসিভ করেননি। আবাহনীর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু অবশ্য নিজেদের পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেছেন।
কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আকাশি-নীলের অধিনায়ক জানান, ‘আগামীকাল (আজ) যারা জিতবে, লিগ শিরোপা অনেকটাই তাদের হয়ে যাবে। বিশেষ করে কিংসের। ড্র করলে পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আবাহনী অনেক দিন ধরে ট্রফিশূন্য। দলের সবাই লিগ টাইটেল জেতার জন্য মুখিয়ে আছে। এ ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় কোনো ভাবনা নেই।’
বাবলু আর যোগ করেন, ‘আমাদের দলে আর্থিক/বেতন-ভাতা এসব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সবার ভাবনায় বসুন্ধরা কিংস ম্যাচ। এমনকি দলে কোনো ইনজুরি সমস্যাও নেই। আবাহনী যেমন বড় দল, কিংসও এখন বড় দল হয়ে উঠেছে। কিংসের বিপক্ষে খেলায় কোনো চাপ অনুভব করছি না। ম্যাচে যারা ভালো খেলবে, তারাই পূর্ণ পয়েন্ট তুলে মাঠ ছাড়বে।’
অনেক দিন ধরেই আবাহনীর হোম ভেন্যু কুমিল্লা। হোম ভেন্যুর কারণে এখানে কিছু দর্শক-সমর্থক তৈরি হয়েছে। হোম ভেন্যুতে খেলার সুবাদে দর্শকদের সাপোর্ট আবাহনীর পক্ষে বেশি থাকবে এটা মুখে না বললেও অনুমেয়। তবে দিন শেষে শিরোপার ফয়সালা হবে ম্যাচ জয়েই।