ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ঐতিহাসিক ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে দেবী বাগদেবীর (সরস্বতী) মন্দির হিসেবে ঘোষণা করে এক চাঞ্চল্যকর রায় প্রদান করেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ ও ঐতিহাসিক সাহিত্যের ওপর ভিত্তি করে এই রায় দেয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই স্থানটি মূলত পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ও সরস্বতী মন্দির ছিল। রায়ে আরও জানানো হয়েছে, সেখানে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার বহাল থাকবে এবং ইতিপূর্বে মুসলিম সম্প্রদায়ের নিয়মিত নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে জারিকৃত প্রশাসনিক সার্কুলারটি বাতিল করা হয়েছে।
বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায়ে উল্লেখ করেন, প্রাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থাপত্যশৈলী অনুযায়ী বিবাদমান এই কাঠামোটি মূলত একটি মন্দির ছিল।
হিন্দু পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই চত্বরে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি, সংস্কৃত শ্লোক খোদাই করা শিলালিপি এবং যজ্ঞ করার জন্য ‘হবনকুণ্ড’ বা পবিত্র অগ্নিকুণ্ডের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আদালতের নির্দেশে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ৯৮ দিনব্যাপী এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালিয়ে ২ হাজার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান কাঠামোটি পূর্ববর্তী একটি বিশাল হিন্দু স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল, যা ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা ভোজ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ এই রায় ও এএসআই-এর প্রতিবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে একে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কাজী মঈনুদ্দিন এবং তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, সরকারি রাজস্ব নথিতেও এই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে ‘মসজিদ’ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং এটি সুফি সাধক মাওলানা কামালউদ্দিন চিশতীর দরগাহ সংলগ্ন একটি ইবাদতখানা।
জৈন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও এই স্থাপনাটিকে একটি প্রাচীন জৈন মন্দির ও গুরুকুল হিসেবে দাবি করে পৃথক পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। তবে আদালত হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বপক্ষে দেওয়া তথ্যপ্রমাণাদি এবং এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক তদন্তের ফলাফলকেই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
২০০৩ সাল থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এই বিতর্কিত চত্বরে হিন্দুরা মঙ্গলবার পূজা এবং মুসলমানরা শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে আসছিলেন। হাইকোর্টের এই নতুন রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের এই সহাবস্থানের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এল।
রায়ের পর মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় সাম্প্রদায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এএসআই-এর সংরক্ষিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি নিয়ে চলমান এই আইনি লড়াই ভারতের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/টিএইচ