শক্তিশালী আসামিও ছাড় পাচ্ছে না : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ প্রমাণ ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ

2026-05-16T20:13:10+00:00
2026-05-16T20:13:10+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আইন-আদালত
শক্তিশালী আসামিও ছাড় পাচ্ছে না : চিফ প্রসিকিউটর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ প্রমাণ ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাইব্যুনালের সামনে একজন আসামি যত প্রভাবশালী কিংবা শক্তিশালীই হোন না কেন অথবা তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হোন না কেন, তা মোটেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। বরং আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান অভিযোগ এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী বিচার চলছে। 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক সাফল্য ও নিরপেক্ষতার চিত্র তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে এরই মধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে চারটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে দেশের অনেক আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নিজ নিজ অপরাধের জন্য সাজা পেয়েছেন। 

বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় জড়িত ৩০ জন আসামির প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অপরাধের মাত্রা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ঢালাওভাবে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, দেশের এই বিশেষ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

আদালতের বর্তমান কাজের পরিধি ও মামলা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অধীনে গুম ও খুনসহ মোট ৪০৫টি স্পর্শকাতর মামলা নিবিড়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং খুব শিগগিরই সেগুলোর আইনি নিষ্পত্তি বা রায় হয়ে যাবে। 

এ ছাড়া বিগত সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গুম-খুনের লোমহর্ষক ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্তও পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি আবারও দৃঢ়তার সঙ্গে আশ্বস্ত করেন যে, ট্রাইব্যুনালে যারা বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযোগ ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্থান নেই।

গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলার সাক্ষীদের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুম-খুনের মামলার সাক্ষীদের বিশেষ ও নিরেট নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য সারাদেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী নিজ এলাকা থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিরাপদভাবে সাক্ষ্য দেওয়া এবং পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত যাবতীয় সুরক্ষার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করছে। অতএব, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: