যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এক বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে দেশটিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
‘রিডেডিকেট ২৫০ : ন্যাশনাল জুবিলি অব প্রেয়ার, প্রেইজ অ্যান্ড থ্যাঙ্কসগিভিং’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূলত রক্ষণশীল খ্রিস্টান নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই আয়োজন দেশটির বহুত্ববাদী ধর্মীয় পরিচয়কে প্রতিফলিত করে না। এটিকে চার্চ ও রাষ্ট্রকে একাকার করার একটি অপচেষ্টা বলছেন সমালোচকরা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা সেখানে বক্তব্য দেবেন। আয়োজকদের দাবি, বাইবেলের বাণী ও প্রার্থনার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় ‘ঈশ্বরের অধীনে এক জাতি’ হিসেবে উৎসর্গ করতে চান।
তবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের সমর্থকদের মতে, এই আয়োজন সরাসরি মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন। ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অ্যানি লরি গেলর এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারি অর্থায়নে এই প্রার্থনা উৎসব মূলত খ্রিস্টীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের একীভূত হওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
সমালোচকরা আঙুল তুলেছেন যে, এই অনুষ্ঠানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা শিখদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এমনকি খ্রিস্টানদের অনেক মূল ধারার চার্চকেও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের এক-চতুর্থাংশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস করেন না। ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (কেয়ার) এই আয়োজনে সকল ধর্মের মানুষের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে।
/এসএকে