সময় ফুরিয়ে আসছে নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে রাজনৈতিক পতনের পূর্বাভাস নতুন নয়। গত আড়াই বছরে বিশ্লেষকরা বহুবার বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটতে

2026-05-19T01:08:17+00:00
2026-05-19T01:08:17+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সময় ফুরিয়ে আসছে নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:০৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে রাজনৈতিক পতনের পূর্বাভাস নতুন নয়। গত আড়াই বছরে বিশ্লেষকরা বহুবার বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটতে চলেছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সংকট এড়িয়ে গেছেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তার জোটেরই গুরুত্বপূর্ণ শরিক অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর চাপ সরকারকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। খবর দ্য ইকোনমিস্টের।

আগামী ২০ মে ইসরাইলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট হতে পারে। আর সেটি হলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। নেতানিয়াহু হয়তো এই ভোট ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করবেন, তবে তিনি বড়জোর আর কয়েক সপ্তাহ সময় পাবেন। কারণ বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

পতনের নেপথ্যে যে বিরোধ : নেতানিয়াহু সরকারের সম্ভাব্য পতনের তাৎক্ষণিক কারণটি হলো কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর একটি দাবি। তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সেমিনারি) শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দিয়ে আইন পাসের চাপ দিচ্ছিল। নেতানিয়াহু এই আইন পাসে রাজি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভোট মেলাতে ব্যর্থ হন। কারণ ইসরাইলের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বৈষম্যমূলক আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ ইসরাইলিদের বড় অংশই মনে করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সরকার তাদের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এটিই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হতে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এতদিন জোট টিকিয়ে রেখেছিলেন। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি জনগণকে ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাক্সিক্ষত বিজয় এখনও অধরা।

গাজার বেশিরভাগ অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ, যেখানে ইসরাইলের আংশিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বাকি অংশ এখনও হামাসের হাতেই রয়ে গেছে। লেবাননে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার পরও স্থলযুদ্ধে ইসরাইলি সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সহায়তায় ইরানে দুবার হামলা চালালেও তেহরান এখনও অটল। নেতানিয়াহু হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফের ক্ষমতায় আসার দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু ইসরাইলি গোয়েন্দাদের মতে, নির্বাচন বা নিকট ভবিষ্যতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

নির্বাচনে যুদ্ধের ছায়া ও গণতন্ত্রের সংকট : নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির এক পার্লামেন্ট সদস্য অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় আমরা হয়তো আগামী নির্বাচনে হারতে যাচ্ছি।’ তবে এই নির্বাচন গাজা যুদ্ধের নৃশংসতার কোনো জবাবদিহি হবে না, কারণ বেশিরভাগ ইসরাইলি এখনও এই যুদ্ধগুলোকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই সমর্থন করে। মূলত বিরোধী জোটের কাছে এই লড়াই নেতানিয়াহুর হাত থেকে ইসরাইলের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র লড়াই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে থেকেই নেতানিয়াহুর সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ইসরাইলি রাস্তায় নেমেছিলেন। যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের কল্যাণে সাময়িক স্থিতিশীলতা থাকলেও কট্টর অর্থোডক্সদের পেছনে দেদার সরকারি অর্থ অপচয় নিয়ে মধ্যপন্থি ও বামপন্থিদের ক্ষোভ তুঙ্গে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৮৩ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার ইসরাইলি দেশ ছেড়েছেন, যা ইসরাইলে বড় ধরনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেন ড্রেন)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, এবারও নেতানিয়াহুর ক্যাম্পের কাছে হেরে যাওয়া হবে তাদের জন্য ‘অসহনীয়’।

নেতানিয়াহুর কি বিদায়ের সময় হলো : গত তিন বছরের প্রায় সব জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তবে বিরোধী দলগুলোও একজোট হতে হিমশিম খাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের মধ্যে জোটের কথা চললেও ডান ও মধ্যপন্থিদের কোন্দল এবং আরব-ইসরাইলি দলগুলোকে জোটে নেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে বিরোধীদের একক কোনো নেতা এখনও উঠে আসেনি। আর এই বিভক্তির কারণেই জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনও একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা পরবর্তী ধকল পার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যদি এখন অবসরে যান, তবে তা কেবল নির্বাচনি পরাজয়ের গ্লানি থেকেই তাকে বাঁচাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ঘুস ও জালিয়াতির মামলাগুলো আপস-নিষ্পত্তির (প্লী বার্গেন) মাধ্যমে শেষ করার সুযোগ তৈরি করবে।

তবে চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু বহুবার জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে কামব্যাক করেছেন। এটি হতে যাচ্ছে লিকুদ পার্টির নেতা হিসেবে তার ১২তম নির্বাচন। রাজনীতি থেকে সহজে পিছু হটার পাত্র তিনি নন। ফলে ইসরাইলের সামনে শতকোটি প্রশ্ন থাকলেও আগামী নির্বাচনটি ঘুরেফিরে আবারও ‘নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে’ এক গণভোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

আরবিএন 


  বিষয়:   ইসরাইল  প্রধানমন্ত্রী  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: